বিরক্তি, ক্ষোভ বা রাগের বশে কাউকে গালিগালাজ করলেই তা আইনত অশ্লীলতার অপরাধ বলে গণ্য হবে না। একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও শব্দ বা মন্তব্য যতই অশ্রাব্য বা আপত্তিকর হোক না কেন, শুধুমাত্র সেই কারণেই তাকে অশ্লীলতার অপরাধ বলা যায় না।
শীর্ষ আদালতের মতে, কোনও মন্তব্য তখনই অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়বে, যখন সেই মন্তব্যে স্পষ্ট যৌন ইঙ্গিত, অশালীন যৌন উদ্দেশ্য বা কাউকে যৌন দিক থেকে অপমান ও কলুষিত করার অভিপ্রায় থাকবে। কিন্তু শুধুমাত্র রাগ বা হতাশা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত গালিগালাজকে সেই একই মানদণ্ডে বিচার করা যাবে না।
আদালত আরও জানিয়েছে, সমাজে বহু সময় মানুষ রাগ, বিস্ময় বা বিরক্তির মুহূর্তে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন। এই ধরনের শব্দ অবশ্যই অশোভন এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। তাই প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং বক্তব্যের প্রকৃতি বিচার করেই আইন প্রয়োগ করতে হবে।
এই পর্যবেক্ষণ একটি ফৌজদারি মামলার শুনানিতে করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগকারীকে মায়ের নামে গালিগালাজ করার পাশাপাশি কাটারি দিয়ে আঘাত করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, গালিগালাজ অশোভন হলেও তা অশ্লীলতার অপরাধ নয়। তবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা অবশ্যই গুরুতর অপরাধ। সেই কারণেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ বহাল রাখা হয়েছে এবং তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং আইনগত অর্থে ‘অশ্লীলতা’—এই দুই বিষয় এক নয়। কোনও মন্তব্য অপরাধ কি না, তা নির্ভর করবে তার উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট এবং তার ফলে অন্যের মর্যাদা বা নিরাপত্তার উপর কী প্রভাব পড়েছে, তার উপরই।




