হরিয়ানার গুরুগ্রামে পুলিশের সঙ্গে প্রায় ৬০ রাউন্ড গুলির লড়াইয়ের পর খতম হল ৪ কুখ্যাত গ্যাংস্টার। বৃহস্পতিবার রাতে সুশান্ত লোক ফেজ-২ এলাকায় ঘটে যাওয়া এই এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ক্রাইম ব্রাঞ্চের ৩ পুলিশকর্মী। আহত দুষ্কৃতীদের দলের আরও এক সদস্য।পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা সকলেই বিদেশে বসে অপরাধ চক্র চালানো কুখ্যাত গ্যাংস্টার দীপক নন্দালের শার্প শ্যুটার।
গুরুগ্রাম পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, একটি স্করপিও গাড়িতে কয়েকজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী এলাকায় ঘোরাফেরা করছে।খবর পেয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কিন্তু পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর আগেই ওই দুষ্কৃতীরা স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকা দীপক নন্দাল গ্যাংয়ের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের তোলা দিতে হবে এমন হুমকি পাচ্ছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আত্মসমর্পণের বদলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর আত্মরক্ষার পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের আটক করতে পাল্টা গুলি চালায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ। শুরু হয় দু’পক্ষের গুলির লড়াই। প্রায় ৬০ রাউন্ড গুলি চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গুলিবিদ্ধ ৫ দুষ্কৃতীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চার জনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর এক অভিযুক্ত এখনও চিকিৎসাধীন। এনকাউন্টারে আহত তিন পুলিশকর্মীকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে ৫টি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। ফরেনসিক দল ও তদন্তকারীরা এলাকা ঘিরে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। নিহতদের বিরুদ্ধে কী কী অপরাধের মামলা রয়েছে এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে এই হামলার যোগ কতটা গভীর, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে।




