বৃহস্পতিবার সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনটি বিলই লোকসভায় পেশ করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা আলোচনার পরে শুক্রবার বিকেলে এই তিনটি বিলের উপর ভোটাভুটি হতে পারে সংসদের নিম্নকক্ষে।
আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পেশ করেন। বিরোধীদের প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মধ্যেই সংসদে পেশ করা হয় কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। একই সঙ্গে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার লক্ষ্যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিলও পেশ করা হয়েছে।
Advertisement
লোকসভায় এই বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারত এক নতুন যুগের দিকে এগোতে চলেছে এবং এই বিল বহু আগেই কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, গত ২৫-৩০ বছর ধরে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তবে বর্তমান সরকারই তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।
Advertisement
প্রধানমন্ত্রী এই বিলকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনবে। তাঁর মতে, মহিলাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যারা এই বিলের বিরোধিতা করবে, দেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিলকে সমর্থন করলে কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
মোদী আরও বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হল সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন আনা। এই ধারণা বহু আগে সামনে এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ জানান, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং না দিয়ে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ’ হিসেবে দেখার জন্য এবং সম্মিলিতভাবে বিলটি পাশ করানোর জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, বিরোধীরা সরাসরি বিলের বিরোধিতা না করলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, ২০২৩ সালেই সর্বসম্মতভাবে এই বিল পাশ হয়েছিল কিন্তু তা এখনও কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৫৪৩টি বিদ্যমান আসনের মধ্যেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা যেত কিন্তু সেটিকে ভবিষ্যতের জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সমাজের প্রান্তিক স্তর থেকে উঠে আসা মানুষের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এবং বলেন, দেশের প্রতিটি শ্রেণির উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ বছরে পঞ্চায়েত স্তর থেকে বহু মহিলা নেতৃত্ব উঠে এসেছে এবং এখন সময় এসেছে তাঁদের জাতীয় রাজনীতিতে সুযোগ দেওয়ার।
‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে তিনি স্পষ্ট করে জানান, উন্নয়ন শুধু অর্থনীতি বা পরিকাঠামোয় সীমাবদ্ধ নয়— সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষ সমান অংশগ্রহণ জরুরি। তাঁর মতে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা, অর্থাৎ মহিলাদের সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত করাই আগামী দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সংসদের এই আলোচনা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, সব দলের সমর্থনে বিলটি কতটা সহজে পাশ হয় এবং বাস্তবায়নের পথে কত দ্রুত এগোয়।
Advertisement



