সংসদের বিশেষ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর আগে তিনি সমাজমাধ্যমে জানান, এই অধিবেশন ভারতের জন্য নারী শক্তিকে আরও মর্যাদা দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মা ও বোনেদের সম্মান জানানো মানেই দেশের সম্মান রক্ষা করা,’ এবং এই ভাবনাকেই সামনে রেখে সরকার এগোতে চায়। তাঁর এই বার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন মহিলা সংরক্ষণ বিলের উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে।
তিন দিনের এই বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে— মহিলা সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার লক্ষ্যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। এই প্রস্তাবগুলি পাশ হলে লোকসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হতে পারে।
Advertisement
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে জনগণনার অপেক্ষা না করেই পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা নিয়ে বিরোধীরা আপত্তি জানিয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে-সহ একাধিক দল মনে করছে, এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
Advertisement
ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন এই বিলের প্রতিবাদে খসড়া পুড়িয়ে দেন, আর রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার পরিকল্পনা হতে পারে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নেতারাও এ নিয়ে বৈঠক করেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের দাবি— বিরোধীরা বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তি না তৈরির অনুরোধ করেছেন।
Advertisement



