• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 11 August, 2026

শুধু স্বামীর রোজগার বিচার করলেই চলবে না, খোরপোশ মামলায় স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও দেখতে হবে: হাইকোর্ট

স্বামীর আয় দেখেই খোরপোশ নয়, স্ত্রীর যোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ, স্পষ্ট রায় দিল বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাস...

শুধু স্বামীর রোজগার বিচার করলেই চলবে না, খোরপোশ মামলায় স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও দেখতে হবে: হাইকোর্ট

Wife Can't Be Awarded Interim Maintenance Solely Based On Husband's Income: Delhi High Court (AI Imagined)

খোরপোশ বা অন্তর্বর্তীকালীন ভরণপোষণ (interim maintenance) সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাইকোর্টের। বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Justice Saurabh Banerjee) এজলাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র স্বামীর আয়ের অঙ্ক দেখে খোরপোশের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা (qualifications), তাঁর রোজগারের সম্ভাবনা এবং সার্বিক পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির মতো একাধিক বিষয় বিবেচনায় রাখা আবশ্যিক বলে জানিয়েছে আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, খোরপোশ সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালতগুলি প্রায়ই শুধু স্বামীর বেতন বা আয়ের নথির উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই প্রবণতা আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পূর্ববর্তী কর্মজীবন, বয়স এবং বর্তমান কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, সবটাই বিবেচনায় রেখে তবেই খোরপোশের যুক্তিসঙ্গত অঙ্ক নির্ধারণ করা উচিত। কেবলমাত্র স্বামী মোটা বেতন পান বলেই স্ত্রীর প্রকৃত প্রয়োজন ও সামর্থ্য যাচাই না করে খোরপোশ মঞ্জুর করে দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।

তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, স্ত্রী পেশাগতভাবে যোগ্য হলেই তাঁর খোরপোশ পাওয়ার অধিকার একেবারে খারিজ হয়ে যায় না। আদালতের বক্তব্য, যোগ্যতা থাকা মানেই প্রকৃত আয় থাকা নয়। কর্মসংস্থানের প্রকৃত সুযোগ, বাজারের বাস্তবতা এবং সংসারের দায়িত্ব সামলে রোজগার করার বাস্তব সম্ভাবনা, সবকিছু একত্রে বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।

এই রায় দেশের পারিবারিক আইন সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবী মহল। পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতেও এই রায়ের তাৎপর্য কম নয়। হাইকোর্টের অধীনস্থ পারিবারিক আদালতগুলিতে (family court) বা জেলা সিভিল কোর্টগুলিতে  প্রতি বছর বহু বিবাহবিচ্ছেদ ও খোরপোশ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়। বিশেষত উচ্চশিক্ষিত ও কর্মরতা মহিলাদের ক্ষেত্রে খোরপোশের অঙ্ক নিয়ে জটিলতা প্রায়ই দেখা যায়। আইনজীবীদের মতে, দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় ভবিষ্যতে রাজ্যের আদালতগুলিতেও রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে, যেখানে শুধু স্বামীর বেতন নয়, স্ত্রীর প্রকৃত পরিস্থিতি ও সামর্থ্যও সমান গুরুত্ব পাবে।