• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 11 August, 2026

ইমরান জেলে, ‘যুবকদের চোখে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ’, পাকিস্তানে দেশজোড়া বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি পিটিআই নেতার

ইমরানের দুই ছেলে বর্তমানে লন্ডনে থাকেন। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালের নভেম্বরের পর থেকে তাঁরা বাবাকে স্বচক্ষে দেখেননি। ইমরানের বন্দিজীবন দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

ইমরান জেলে, ‘যুবকদের চোখে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ’, পাকিস্তানে দেশজোড়া বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি পিটিআই নেতার

Photo: Statesman

জেলে বন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের দেখা করতে না দিলে দেশজোড়া বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এই প্রসঙ্গেই আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পিটিআই-শাসিত খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের যুবসমাজের মধ্যে ইতিমধ্যেই ‘বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ’ দেখা যাচ্ছে।

ইসলামাবাদে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘আমি এ দেশের যুবকদের চোখে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ দেখতে পাচ্ছি। একটা সময় কেউই একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না’। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই ইমরানকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

‘ইমরান শান্তির ডাক দিলেও তখন আর কেউ শুনবে না’

পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি ও একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান খান দীর্ঘ দিন ধরে আদিয়ালা জেলে বন্দি। তাঁর দল বার বার অভিযোগ করেছে, জেলে ইমরানের সঙ্গে পরিবারের সদস্য এবং দলের নেতা-কর্মীদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পিটিআই। বিশেষ করে তাঁর চোখের সমস্যার কথা জানিয়েছে দলটি। এই পরিস্থিতিতে আফ্রিদির সতর্কবার্তা, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এমন জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে যে পরে ইমরান নিজেই শান্তি বা সমঝোতার ডাক দিলেও তা কাজে নাও আসতে পারে।

পিটিআই নেতার বক্তব্য, ‘জনগণের মধ্যে ঘৃণা ও ক্ষোভ যদি আরও বাড়তে থাকে, তা হলে ইমরান খান নিজে শান্তির আবেদন করলেও মানুষ সেই আবেদন আর নাও শুনতে পারেন’। ইমরানের সঙ্গে দলের নেতাদের সাক্ষাৎ নিয়েই আপাতত নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আফ্রিদি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পিটিআইয়ের সাংসদেরা ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে আদিয়ালা জেলে যাবেন। সেই সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়া হলে গোটা পাকিস্তান বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইমরানের দলের দাবি, তাঁকে পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর চিকিৎসা নিয়েও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পিটিআইয়ের। তবে পাকিস্তানের শাসকপক্ষের কর্তারা এমন কোনো অভিযোগই মানতে নারাজ।

তিন বছর ধরে জেলে ইমরান

৭৩ বছরের ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর দল অবশ্য বার বার দাবি করেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ইমরানকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর গ্রেফতারির তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় পিটিআই সমর্থকেরা বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। সেই বিক্ষোভে শতাধিক মানুষকে আটক করার খবরও পাওয়া যায়।

তাঁর দল বার বার অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ ইমরানকে পরিবারের সদস্য এবং দলের সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। পাশাপাশি, জেলে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় থাকার ফলে এবং ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় তাঁর চোখে জটিল সমস্যাও দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাই। এ ছাড়াও তাঁর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তাঁর দল।

পুত্রদের আশঙ্কা, জেলে ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ইমরানের নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম খান। দীর্ঘ সময় ধরে বাবার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় তাঁরা পাকিস্তানে গিয়ে ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, জেলে ইমরানের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

ইমরানের দুই ছেলে বর্তমানে লন্ডনে থাকেন। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালের নভেম্বরের পর থেকে তাঁরা বাবাকে স্বচক্ষে দেখেননি। ইমরানের বন্দিজীবন দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশেষ করে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর আইনজীবী পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিলেন, বন্দি অবস্থায় ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। পরে একটি মেডিক্যাল বোর্ড জানায়, চিকিৎসার পরে চোখের ফোলা কমেছে এবং দৃষ্টিশক্তিরও উন্নতি হয়েছে।

এর আগেও ইমরানের ছেলেরা বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত জেল-সাক্ষাৎ আটকে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে ইমরানের জীবিত থাকা বা তাঁর প্রকৃত শারীরিক অবস্থার কথা জানার সুযোগও পরিবার পায়নি বলে দাবি করেছিলেন কাসিম।

বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য দুই ভাই ভিসার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই ভিসা প্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ কাসিমের। তাঁর দাবি, সরকার ইচ্ছাকৃত তাঁদের ভিসা প্রক্রিয়া আটকে রাখছে।

ইমরানের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে দীর্ঘ সময় একা বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং স্বাধীন চিকিৎসার সুযোগও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাসিমের কথায়, বাবা নিরাপদে আছেন কি না, আহত কি না, এমনকি বেঁচে আছেন কি না—তা জানতে না পারাটাই পরিবারের কাছে এক ধরনের মানসিক নির্যাতন।

এ বার ইমরানের সঙ্গে দলের নেতাদের সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর গোটা বিশ্বের। যুবকদের ‘চোখে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ’ দেখার দাবি করে আফ্রিদির এই মন্তব্য সে দেশের পরিস্থিতিকে আরও কতটা উত্তপ্ত করে, এখন সেটাই দেখার।