• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

তৃণমূল এবং জোড়াফুল কার? নির্বাচন কমিশনকে চার মাসের সময়সীমায় বাঁধল সুপ্রিম কোর্ট

কয়েকদিন আগে তৃণমূলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর জানিয়ে দেয়, আপাতত সর্বভারতীয়

তৃণমূল এবং জোড়াফুল কার? নির্বাচন কমিশনকে চার মাসের সময়সীমায় বাঁধল সুপ্রিম কোর্ট

Supreme Court Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে থাকে কিছু বিধায়ক-সাংসদ, বাকি সাংসদরা দল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দেন। আর বিধায়কদের একটা বড় অংশ নিজেদের আসল তৃণমূল বলে বিধানসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। তারপরই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠে যায়, তৃণমূল নাম এবং জোড়াফুলের স্বত্ব কারা পাবে? সোমবার চার মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে বলে নির্বাচন কমিশনকে সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।

এদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার কাজ শেষ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তার পর তাদের তিন মাসের মধ্যে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যার অর্থ, আগামী চার মাসের মধ্যে তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন। আর এখানেই একটা আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। চার মাস ধরলে তা ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস গড়িয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নভেম্বর মাসে যদি পুরসভা নির্বাচন হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন নাম-প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকে।

কয়েকদিন আগে তৃণমূলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর জানিয়ে দেয়, আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক জোড়াফুল কালীঘাট তৃণমূল কিংবা ঋতব্রত শিবির কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর, তা নিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই প্রতীক এবং নাম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার শুনানিতে মমতা তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিবাল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক নিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতে আর্জি জানান। নির্বাচন কমিশনের কাছে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কিনা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। মমতা তৃণমূল তাতে সম্মতি দিলেও ঋতব্রত তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী মুকুল রোহতগি নির্বাচন কমিশনের কাছে বক্তব্য জানানোর জন্য ৬ সপ্তাহ সময় চান। যদিও তা মেনে না নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, চার সপ্তাহ অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার কাজ শেষ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন মাস সময় পাবে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে চার মাস সময় লেগে যাবে।

তাছাড়া সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আসার পর বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আগামী পুরসভার নির্বাচন ইমানদার বনাম গদ্দারের লড়াই হবে। যাঁরা ইমানদারদের পক্ষে থাকতে চান তাঁরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেনেন। গদ্দারদের কোনও জায়গা থাকবে না।’