বিহারের রাজনীতিতে সদ্য চমক দেখানো প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) দল জন সুরাজ (Jan Suraaj)। বিজেপির হাত থেকে বাঁকিপুর (Bankipur) বিধানসভা আসন ছিনিয়ে নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত এক সভায় দাঁড়িয়ে পিকে জানিয়ে দিলেন, বাঁকিপুরের অন্তত দশ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি।
সভায় প্রশান্ত কিশোর সরাসরি আবেদন জানান, যে সব ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হয়েও কর্মহীন বসে আছেন, তাঁরা যেন নিজেদের বায়োডেটা বা সিভি (CV) তাঁর দপ্তরে জমা দেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই চাকরিগুলি সরকারি নয়, বরং বেসরকারি ক্ষেত্রের। নিজের পরিচিতি ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে কলকারখানা ও অফিসে যোগ্য বেকারদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে অন্তত দশ হাজার পরিবারের ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পিকে।
শুধু কর্মসংস্থানই নয়, একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। হাসপাতালের আশপাশে জঞ্জাল সমস্যা, পানীয় জলের অভাব এবং রেশন কার্ড সংক্রান্ত ভোগান্তির মতো ছোট ছোট সমস্যা আগামী তিন মাসের মধ্যেই মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রেশন কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না, এবং সুবিধাভোগীরা পুরো পাঁচ কেজি খাদ্যশস্য পাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ষাটোর্ধ্ব প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মাসিক ১১০০ টাকা বার্ধক্য ভাতারও ঘোষণা করেছেন তিনি।
বিহারের এই রাজনৈতিক পালাবদল পশ্চিমবঙ্গের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে একাধিক কারণে। জন সুরাজের মতো নতুন রাজনৈতিক শক্তি প্রথাগত দলগুলিকে হারিয়ে যেভাবে জমি করে নিচ্ছে, তা পর্যবেক্ষকদের মতে আগামী দিনে অন্য রাজ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের মতো ইস্যু এবং জেন-জি আন্দোলন যেভাবে ভোটের ময়দানে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও শিক্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।




