• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 10 August, 2026

বাঙালি বিজ্ঞানী দীপক ধরের নাম স্টিফেন হকিংয়ের পাশেই, বালির স্তূপের রহস্য সমাধান করেই বিশ্বজয়

অধ্যাপক দীপক ধর ২০২৬ সালের ডিরাক মেডেল জয়ী, বালির স্তূপ মডেল ও স্ব-সংগঠিত সংকটাবস্থা তত্ত্বের জন্য এই সম্মান পেলেন এই প্রবাসী বাঙালি পদার্থবিদ।

বাঙালি বিজ্ঞানী দীপক ধরের নাম স্টিফেন হকিংয়ের পাশেই, বালির স্তূপের রহস্য সমাধান করেই বিশ্বজয়

Prof. Deepak Dhar (@The IISER Pune)

সংখ্যাতত্ত্ব পদার্থবিদ্যায় (statistical mechanics) অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি পেলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অধ্যাপক দীপক ধর। ২০২৬ সালের ডিরাক মেডেল (Dirac Medal) প্রাপকদের নাম ঘোষণা করেছে ইতালির ট্রিয়েস্তে অবস্থিত আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা কেন্দ্র (International Centre for Theoretical Physics ICTP)। পদার্থবিদ্যার জগতে এই পুরস্কারকে সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কারগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়। এক সময় এই একই মেডেল পেয়েছিলেন স্টিফেন হকিংয়ের (Stephen Hawking) মতো বিজ্ঞানীও। ফলে দীপক ধরের এই সাফল্য গোটা দেশের কাছেই গর্বের।

কী নিয়ে গবেষণা

দীপক ধরের গবেষণার মূল বিষয় প্রকৃতির জটিল ব্যবস্থার (complex systems) আচরণ। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ বালির স্তূপের মডেল (sandpile model) । তাঁর এই তত্ত্ব অনুযায়ী, বালির স্তূপে ক্রমাগত বালি যোগ করলে বেশিরভাগ সময়ে কিছুই হয় না অথবা সামান্য ধস নামে। কিন্তু মাঝেমধ্যে একটিমাত্র বালিকণা যোগ করলেই গোটা স্তূপ ধসে পড়তে পারে। এই তত্ত্বকে বলা হয় স্ব-সংগঠিত সংকটাবস্থা (self-organised criticality)। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভূমিকম্প থেকে শুরু করে শেয়ার বাজারের ধস, এমনকি বাস্তুতন্ত্রের ভাঙন বোঝার ক্ষেত্রেও এই তত্ত্ব কাজে লাগে। আইসিটিপি জানিয়েছে, সরল মিথস্ক্রিয়া থেকে কীভাবে জটিল এবং অপ্রত্যাশিত আচরণ তৈরি হতে পারে, তা দেখিয়েছেন দীপক ধর।

এ বছর মোট চারজন বিজ্ঞানী ডিরাক মেডেল পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের কলেজ দ্য ফ্রঁস (Collège de France)-এর সাম্মানিক অধ্যাপক বার্নার্ড দেরিদাও (Bernard Derrida)।

উত্তরপ্রদেশ, ক্যালটেক এবং

দীপক ধরের জন্ম উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে, ১৯৫১ সালে। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর আইআইটি কানপুর থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর তিনি পাড়ি দেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (California Institute of Technology, Caltech)। সেখানে বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের (Richard Feynman) শিক্ষণ-সহকারী হিসাবে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। ১৯৭৮ সালে সেখান থেকেই পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন দীপক ধর।

বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক বিজ্ঞান কেন্দ্র, টাটা মৌলিক গবেষণা সংস্থায় (International Centre for Theoretical Sciences, TIFR) আইএনএসএ বিশিষ্ট অধ্যাপক (INSA Distinguished Professor) হিসাবে কর্মরত। এর আগে তিনি পুণের আইসার (IISER Pune)-এও ছিলেন।

বাংলার সঙ্গেও যোগ

দীপক ধরের কৃতিত্বের তালিকা দীর্ঘ। ২০০১ সালে তিনি পেয়েছিলেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যাকাডেমির এসএন বোস মেডেল, যা সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামাঙ্কিত এবং বাংলার বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ২০২২ সালে সংখ্যাতত্ত্ব পদার্থবিদ্যায় সর্বোচ্চ সম্মান বোল্টজম্যান মেডেল (Boltzmann Medal) জয়ী প্রথম ভারতীয় হিসাবেও ইতিহাস গড়েন তিনি। ২০২৩ সালে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ (Padma Bhushan) পুরস্কারেও ভূষিত হন দীপক ধর। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৪ বছর, কিন্তু গবেষণায় ভাটা পড়েনি এতটুকুও।

১৯৮৫ সালে চালু হওয়া ডিরাক মেডেল প্রতি বছর তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয়। দীপক ধরের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ভারতের মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার (basic science research) ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীমহল।