জুলাই মাসে রাজ্যে বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছিল আমুল ব্র্যান্ডের মূল সংস্থা গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা বলেছিল সংস্থা। ইতিমধ্যেই জুলাইয়ের মাঝামাঝি আমুলের কারখানার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন হয়েছে। সাঁকরাইল ফুড পার্কে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কারখানা তৈরি করছে আমুল।
এরই মধ্যে রাজ্যের দুগ্ধশিল্পে ফের বড় লগ্নির ঘোষণা। আমূলের ৭০০ কোটির প্রকল্পের এক মাসের মধ্যেই এবার ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানাল থ্যাকার ডেয়ারি। থ্যাকার ডেয়ারিও বিনিয়োগ করছে হাওড়া জেলায়। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় তৈরি হবে সংস্থার নতুন উৎপাদন কেন্দ্র। থ্যাকার ডেয়ারির প্রতিনিধি ঋদ্ধিমা থ্যাকার শনিবার কলকাতায় বণিকসভা ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি)-এর এক অনুষ্ঠানে এই বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন।
বণিকসভার ওই অনুষ্ঠানে ঋদ্ধিমা জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই উলুবেড়িয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে সংস্থার ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। ঋদ্ধিমা আরও জানিয়েছেন, প্রকল্পটি চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মূলত বিপুল রপ্তানির বাজারের লক্ষ্যেই নতুন কারখানা গড়ে তোলা হবে। সব কিছু ঠিক মতো চললে সংস্থা এক বছরের মধ্যেই দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানি শুরু করবে। দুগ্ধশিল্পে পর পর দুই বড় মাপের বিনিয়োগে শিল্পমহলের নজরও এখন হাওড়ার দিকে।
এর মধ্যে দ্রুত শিল্পনীতির খসড়া তৈরির প্রস্তুতির কাজও শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগী হয়েছেন। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে তিনি আলাদা করে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও। অন্যদিকে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নবান্নে বণিকসভা ও শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে জমি নীতি, ইনসেনটিভ-সহ শিল্পনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতামত নেওয়া হবে। তারপর সেই আলোচনার নির্যাস প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে মন্ত্রীগোষ্ঠীর কাছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রীসভা অনুমোদন করলে তা আইনে পরিণত হবে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে শিল্প সংক্রান্ত সাব-কমিটির বৈঠক রয়েছে। বৈঠকের পরই প্রাথমিক শিল্পনীতি ঘোষণা করা হবে। তবে ১৫ আগস্ট শিল্পনীতি ঘোষণার কথা থাকলেও হয়তো সেটা কিছুটা পিছতে পারে। কারণ সবকিছু ভাল করে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে নতুন শিল্পনীতি তৈরি করা হবে। তবে অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আগস্টেই প্রাথমিক নীতি প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী ক্ষেত্রে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চূড়ান্ত শিল্পনীতি প্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।




