ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gaynesh Kumar)সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারপর থেকেই দেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gaynesh Kumar) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমনকি কমিশন এবং জ্ঞানেশ কুমারের (Gaynesh Kumar) ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়। এবার সেই মামলা দ্রুত শুনতে রাজি হয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ (Supreme Court)। আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হবে (Supreme Court)।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে বিষয়টি তোলেন আইনজীবী বিকাশ সিং। তিনি আদালতে জানান, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েই মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে কমপক্ষে ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা নিয়ে তাঁদের একাধিক প্রশ্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষ করে নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমিশনের তিন সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোলাঘাটে শুভেন্দুর ভাড়াবাড়িতে পুলিশি তল্লাশি সংক্রান্ত মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gaynesh Kumar) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক মামলাও দায়ের হয়েছে। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠীর করা আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবেদনে সেই সিদ্ধান্তগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, নির্বাচন কমিশনের মতো তিন সদস্যের সাংবিধানিক সংস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতার পরিধি কতটা।
এ ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Gaynesh Kumar) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইনের ১৮ নম্বর ধারা গুরুত্বপূর্ণ। ওই ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনের কাজকর্ম যতটা সম্ভব সর্বসম্মতির ভিত্তিতে নেওয়া হবে। কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।
দেখুন:




