• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 29 September, 2026

আমেরিকায় ইস্পাত শিল্প গড়তে প্রায় দেড় লক্ষ কোটির বিনিয়োগ ভারতীয় শিল্পসংস্থা এসার গ্রুপের, ঘোষণা ট্রাম্পের

সোমবার হোয়াইট হাউসে দুই ভারতীয় শিল্পপতিকে পাশে বসিয়ে এই কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, এটি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা হতে চলেছে

আমেরিকায় ইস্পাত শিল্প গড়তে প্রায় দেড় লক্ষ কোটির বিনিয়োগ ভারতীয় শিল্পসংস্থা এসার গ্রুপের, ঘোষণা ট্রাম্পের

Image: SNS

ভারতের শিল্পগোষ্ঠী এসার গ্রুপ (Essar Group) আমেরিকায় ইস্পাত শিল্প গড়তে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৭৩ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে চলেছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে দুই ভারতীয় শিল্পপতিকে পাশে বসিয়ে এই কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donal Trump) । ট্রাম্পের দাবি (Donal Trump) , এটি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা হতে চলেছে। আমেরিকার আইওয়া প্রদেশে ইস্পাত কারখানাটি তৈরি হচ্ছে। এই কারখানার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করেছে আমেরিকার সংস্থা ‘মেসাবি মেটালিকস’। যদিও এই সংস্থাকে পরে কিনে নিয়েছে ভারতের ‘এসার’ সংস্থা (Essar Group)।

প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ১ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ খনি থেকে শুরু করে ইস্পাত উৎপাদন পর্যন্ত পুরোটাই আমেরিকার মাটিতে হবে। সোমবার এই শিল্পসংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি রুইয়া এবং তাঁর পুত্র রেবন্তকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প (Donal Trump) বলেন, ‘আমরা আজ আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, মেসাবি আমেরিকার ইতিহাসে বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরি করতে চলেছে।‘

‘মেসাবি মেটালিকস’-এর চেয়ারম্যান রেবন্ত রুইয়া বলেন, ভারতে জন্ম নেওয়ার পর নিউইয়র্ক, বোস্টন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পড়াশোনা ও জীবনের একটি বড় সময় কাটানোর পর আমেরিকায় এই বিনিয়োগ তাঁরি কাছে এক অর্থে ‘ঘরে ফেরা’। তিনি এই প্রকল্পকে ‘A true homecoming’ বলে উল্লেখ করেছেন।

আমেরিকায় শিল্প উৎপাদনের গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান রেবন্ত। তাঁর কথায় নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে ‘খনি থেকে ইস্পাত কারখানা’-পুরো দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করবে।

আরও পড়ুন: পুজো পরিক্রমায় ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রির অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বাড়ি ইডির অভিযান

এসার (Essar Group)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা রবি রুইয়া জানান, তিনি এবং তাঁরই প্রয়াত ভাই শশী রুইয়া পারিবারিক ব্যবসা হিসেবে এসার (Essar Group) গড়ে তুলেছিলেন। ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ প্রকল্প-সহ বিভিন্ন শিল্প পরিকাঠামো তৈরি মাধ্যমে গোষ্ঠীটি ধীরে ধীরে বিস্তার পায়।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতির পক্ষেও সওয়াল করেন। ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের সদস্যরা এসার (Essar Group)-এর বিনিয়োগের সঙ্গে বিদেশি ইস্পাতের উপর আরোপ করা ৫০ শতাশ মার্কিন শুল্কের সরাসরি যোগসূত্রের কথা তুলে ধরেন।

 লুটনিকের দাবি, ওই শুল্ক না থাকলে এই খনি ও ইস্পাত কারখানা তৈরি হত না। ট্রাম্পও  (Donal Trump) বলেন, সংস্থাগুলি শুল্ক এড়াতেই আমেরিকায় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলছে। এই বিনিয়োগের ফলে এসার আমেরিকার বাজারের জন্য সরাসরি মার্কিন দেশেই ইস্পাত উৎপাদন করতে পারবে। ফলে বিদেশ থেকে ইস্পাত আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আইওয়ার এই কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আসবে মিনেসোটায় ‘মেসাবি মেটালিকস’-এর লৌহ আকরিক প্রকল্প থেকে। ট্রাম্পের দাবি মিনেসোটার এই প্রকল্পটি ৫০ বছরের মধ্যে আমেরিকায় তৈরি হতে চলা প্রথম নতুন লৌহ আকরিক খনি। ট্রাম্পের ভাষায়, এই ইস্পাত ‘আমেরিকাতেই খনন, গলানো এবং তৈরি’ হবে।

আরও পড়ুন: শীতকালীন বায়ু দূষণ মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা দিল্লির, যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, বাড়ি থেকে কাজ এবং নির্মাণকাজের উপর নিষেধাজ্ঞা

আইওয়ার কারখানায় ২০৩০ সাল থেকে ইস্পাত উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। বছরে প্রায় ১ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদন করতে পারবে এই কারখানাটি। প্রায় ৬ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে খনি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আরও কয়েক হাজার স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, আগামী এক দশকে এই প্রকল্প মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলারের অবদান রাখতে চলেছে।

১৯৬৯ সালে শশী রুইয়া এবং রবি রুইয়ার হাতে এসার (Essar Group) প্রতিষ্ঠিত হয়। গত পাঁচ দশক ধরে ইস্পাত, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা বিস্তার পায়। এই গোষ্ঠীর শিল্প পরিকল্পনা মধ্যে রয়েছে গুজরাতের ১০ মিলিয়ন টন ক্ষমতাসম্পন্ন হাজিরা ইস্পাত কারখানা, ভারতে ভাদিনারের তেল শোধনাগার এবং ব্রিটেনের স্ট্যানলো শোধনাগার। সৌদি আরবেও কম-কার্বন ইস্পাত প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে এসার গ্রুপের (Essar Group)।

দেখুন: