মহারাষ্ট্রের বহুচর্চিত পবনরাজে নিম্বলকর হত্যা মামলায় ২০ বছর পর বড় রায় দিল বিশেষ সিবিআই আদালত। কংগ্রেস নেতা পবনরাজে নিম্বলকরের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদ্মসিংহ পাতিল-সহ ৮ জনকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণ করা মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারী সংস্থা তুলে ধরতে পারেনি।
২০০৬ সালের ৩ জুন নভি মুম্বাইয়ের কাছে দুষ্কৃতীরা পবনরাজের গাড়ি আটকে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর এবং চালকের। নিহত নেতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সিবিআইয়ের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে খুনের ছক কষেছিলেন পদ্মসিংহ পাতিল। খুনের জন্য ৩০ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। ২০০৯ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তিনি জামিন পান।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১২৮ জন সাক্ষীর বয়ান শোনা হয়। সমাজকর্মী আন্না হাজারেও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তবে আদালত জানায়, রাজসাক্ষীর বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে এবং ষড়যন্ত্রের পুরো চক্র প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তাই সব অভিযুক্তকেই খালাস করে দেওয়া হচ্ছে।
এই রায়কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ নিহত নেতার ছেলে ওমরাজে নিম্বলকর বর্তমানে শিবসেনা ইউবিটির সাংসদ। শোনা যাচ্ছে, ওমরাজে-সহ উদ্ধব শিবিরের ৫ সাংসদ একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন। অন্যদিকে এই মামলার মূল অভিযুক্ত পদ্মসিংহ পাতিল আসলে মহারাষ্ট্রের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের ভাই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মামলার রায়ের প্রভাব আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতেও পড়তে পারে।




