কেরলের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ সিপিএম নেতা ভি এস অচ্যুতানন্দনকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কেরল সিপিএম নেতা মারিয়াম আলেকজান্ডার বেবির দাবি, অচ্যুতানন্দন জীবিত থাকলে এই সম্মান তিনি গ্রহণ করতেন না।
এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এম এ বেবি বলেন, ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং জ্যোতি বসুও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, অচ্যুতানন্দন বেঁচে থাকলেও একই অবস্থান নিতেন।
Advertisement
তবে প্রয়াত নেতার ছেলে ভি এ অরুণ কুমার ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং এই সম্মান তাঁর ন্যায্য প্রাপ্য। পরিবারের কাছে এই স্বীকৃতি গর্বের বিষয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
Advertisement
প্রসঙ্গত, সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সরকার এ বছরের পদ্মসম্মান প্রাপকদের নাম ঘোষণা করেছে। চলতি বছরে পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পাচ্ছেন মোট ১৩১ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বাংলাভাষী ও বঙ্গবাসী। সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্র-সহ পাঁচ জন পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন। অলকা যাজ্ঞিক, উদয় কোটাক ও বিজয় অমৃতরাজের সঙ্গে পদ্মভূষণের তালিকায় রয়েছে অচ্যুতানন্দনের নাম। তিনি গত বছর ১০১ বছর বয়সে প্রয়াত হন এবং সিপিআইএমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
কেরলের বিধানসভা ভোটের আগে এই সম্মান ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর আরও বেড়েছে। সিপিএম নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, বিজেপি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেরলে বাম ও হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে চাইছে। এতে কেরলের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
Advertisement



