• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 3 August, 2026

হঠাৎই ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই একের পর এক বগি, প্রাণরক্ষা যাত্রীদের  

ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই ট্রেনের কর্মীরা ছুটে আসেন। রেলের তরফ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দমকল কর্মীরা ও পুলিশ উপস্থিত হন। দ্রুত যাত্রীদের কোচ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। রেল ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হঠাৎই ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই একের পর এক বগি, প্রাণরক্ষা যাত্রীদের  

Photo: ANI

প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে হঠাৎই অগ্নিকাণ্ড। সোমবার ভোরে বিহারের সহর্সা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর রেলস্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লেগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত গতিতে সেই আগুন ট্রেনের আরও তিনটি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীরা দ্রুত প্ল্যাটফর্মে নেমে যায়। এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর ৩টে ২৫ মিনিট নাগাদ স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ঢুকে দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎই ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। এরপরেই ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পিছনের বগিগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। যদিও সমস্ত যাত্রীকে দ্রুত ট্রেন থেকে নামিয়ে আনা হয়।

সুপৌলের বাসিন্দা ও ট্রেনের এক যাত্রী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, প্রথমে তিনি বুঝতে পারেন বগির নিচটা প্রচণ্ড গরম হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি আগুন দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি অন্য যাত্রীদের সতর্ক করেন। তাঁর কথায়, ‘প্রথমে নিচ থেকে প্রচণ্ড গরম অনুভব করি। পরে নেমে দেখি আগুন ধীরে ধীরে পুরো ট্রেনকে গ্রাস করছে। সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে সতর্ক করি। তারপরে যাত্রীদের নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে আনা হয়।’

অন্য এক যাত্রী সোনু কুমার জানান, তিনি মানসি স্টেশন থেকে ওই ট্রেনে উঠেছিলেন। সিমরি বখতিয়ারপুরে ট্রেন থামার পর ইঞ্জিনের কাছে ছোট একটি জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই ট্রেনের কর্মীরা ছুটে আসেন। রেলের তরফ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দমকল কর্মীরা ও পুলিশ উপস্থিত হন। দ্রুত যাত্রীদের কোচ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। রেল ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এই ঘটনার পরে স্টেশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট সঞ্জয় কুমার সাজ্জন জানান, সহর্ষ-পাটনা কোশী এক্সপ্রেস, মণিহারি-জয়নগর জানকী এক্সপ্রেস, সহর্সা-সমস্তিপুর প্যাসেঞ্জার এবং সহর্ষ-দেওঘর শ্রাবণী স্পেশাল ট্রেনগুলি কিছুটা দেরিতে চলছে। প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি কোচের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।