বিহারের সুপৌল জেলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের প্রায় ২০ ফুট গভীর খাদে পড়ে গেল একটি যাত্রীবোঝাই বাস। বাসটিতে ৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ৬ জন মহিলা আহত হয়েছেন। তবে সকলেই বর্তমানে বিপন্মুক্ত বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটি পাটনা থেকে যোগবানি যাচ্ছিল। সোমবার ভোর প্রায় ৩টা নাগাদ সুপৌল জেলার চিকনি গ্রামের কাছে আচমকাই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা ছেড়ে খাদে নেমে যায়। সেই সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রবল ধাক্কায় বাসের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন।
Advertisement
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানোর ফলে চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তার জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বাসের সামনের কাচ ভেঙে ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের একে একে বাইরে বের করে আনা হয়। দুর্ঘটনায় আহত ৬ জন মহিলাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁদের আঘাত গুরুতর নয়। সকলেই এখন বিপন্মুক্ত।
Advertisement
পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি অল্পের জন্য একটি ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া থেকে রক্ষা পায়। যদি ওই খুঁটিতে ধাক্কা লাগত, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। খবর পেয়ে ভাপ্তিয়াহি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে অন্য বাসে করে তাঁদের গন্তব্যে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘপথ বাস পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাত্র একজন চালক দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালান। ফলে ক্লান্তির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘপথে অন্তত দু’জন চালক থাকা বাধ্যতামূলক করা হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও রবিবার ভোরে বিহারের কৈমুর জেলায় জাতীয় সড়কে একটি বাস ও ট্রলির সংঘর্ষে একটি শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনায় বহু যাত্রী আহত হন।
Advertisement



