বিহারের নালন্দা জেলার মাঘরা গ্রামের শীতলা মাতার মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পর প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সর্বত্র। এই ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই মহিলা। ঘটনার পরই দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতির প্রমাণ মিলতেই দীপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাজমণিকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারজন পুলিশকর্মীকেও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় নিয়ন্ত্রণের কোনও সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। গোটা নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রায় একাই সামলাচ্ছিলেন এক প্রহরী। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলেও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সময়মতো খবর দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার বিশেষ পুজোর কারণে বিপুল সংখ্যক ভক্ত মন্দিরে ভিড় জমিয়েছিলেন। হঠাৎ করে ভিড় বাড়তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই আতঙ্ক থেকেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
Advertisement
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৮ জন মহিলার মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতদের পরিবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সঠিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা থাকলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
Advertisement
ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। এই দলে পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় গাফিলতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। মৃতদের পরিবারকে ৬ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
Advertisement



