কাজের ফাঁকে, গভীর রাতে কিংবা কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয় অনেকের। কখনও মিষ্টি, কখনও চিপস, আবার কখনও ভাত বা ভাজাভুজির প্রতি অদম্য আকর্ষণ দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘ফুড ক্রেভিং’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র লোভ বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব নয়, বরং শরীরের ভিতরে কোনও ঘাটতি বা পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীর নিজের প্রয়োজন সরাসরি প্রকাশ করতে পারে না বলেই মস্তিষ্ক বিভিন্ন খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শরীরে জলের ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা রক্তে শর্করার ওঠানামা— সবকিছুই এর পিছনে কাজ করতে পারে।
হঠাৎ মিষ্টি, চকোলেট বা পেস্ট্রি খেতে ইচ্ছে করলে তা অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে শরীর দ্রুত শক্তির উৎস খুঁজতে শুরু করে। চিনি খুব দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে বলেই তখন মস্তিষ্ক মিষ্টি খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মানসিক চাপের সময়ও এই প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।
অন্যদিকে চিপস, ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত নুন দেওয়া খাবার খেতে ইচ্ছে করলে তা শরীরে জলের ঘাটতি বা লবণের অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে। প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। তখন মস্তিষ্ক নোনতা খাবারের চাহিদা তৈরি করে। চিকিৎসকদের মতে, ক্লান্তি বা মানসিক অবসাদের সময়ও এই ধরনের খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।
অনেক সময় হঠাৎ ভাত, পাউরুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছে করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অর্থ শরীর দ্রুত শক্তি চাইছে। এই ধরনের খাবার শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও দেয়। উদ্বেগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা ঘুমের অভাব থাকলে মানুষ অবচেতনভাবে এই খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।
চিকিৎসকদের মতে, বরফ, মাটি, চক বা খড়িমাটি খাওয়ার প্রবণতা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় ‘পাইকা’। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তাল্পতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, শরীরের বার্তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে এই ধরনের অস্বাভাবিক খাদ্য ইচ্ছা অনেকটাই কমানো সম্ভব।




