ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের বাড়তি কমিশন, অতিরিক্ত চার্জ এবং ছাড়ের চাপ ঘিরে বিতর্ক এবার কলকাতাতেও তীব্র হচ্ছে। শহরের একাধিক নামী রেস্তোরাঁর অভিযোগ, সুইগি ও জোম্যাটোর ক্রমবর্ধমান কমিশনের বোঝা ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে। ফলে কেউ নিজেদের ডেলিভারি পরিষেবা শক্তিশালী করছে। আবার কেউ ইতিমধ্যেই এক বা একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে এসেছে।
‘সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা শেফ সুশান্ত সেনগুপ্ত জানান, কয়েক বছরের মধ্যে কমিশনের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাঁর দাবি, এক সময় কমিশন ছিল ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। এখন পুরনো রেস্তোরাঁগুলিকে ১৯ থেকে ২৩ শতাংশ এবং নতুনদের ২৮ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে জিএসটি, বিজ্ঞাপনের খরচ ও অন্যান্য চার্জ যোগ হওয়ায় লাভের পরিমাণ দ্রুত কমে যাচ্ছে।
একই সুর ‘সাঁঝা চুলহা’-র কর্ণধার আসিফ আহমেদের গলায়। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ছাড় ও কমিশন মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অর্ডারের বড় অংশই প্ল্যাটফর্মের খাতে চলে যাচ্ছে। তাই দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা নিজেদের ডেলিভারি ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছেন। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আরও অনেক রেস্তোরাঁ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে দিতে পারে বলেও তাঁর আশঙ্কা।
গোলপার্ক ও বাগুইআটির ‘দ্য ইয়েলো টার্টল’ গত ছয় থেকে আট মাস ধরে সুইগির সঙ্গে কাজ করছে না। রেস্তোরাঁর মালিক অপেক্ষা লাহিড়ীর অভিযোগ, কমিশন, ছাড়, প্যাকেজিং ও প্ল্যাটফর্ম চার্জ কাটার পর অর্ডারের মোট মূল্যের ৭০ শতাংশেরও বেশি অর্থ বিভিন্ন খাতে চলে যায়। তাঁর আরও দাবি, অনেক সময় রেস্তোরাঁর সম্মতি ছাড়াই প্রচারমূলক কর্মসূচি চালু করা হয়। সেই বাবদ অর্থ কাটা হলেও তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলে না।
বিরিয়ানি সংস্থা ‘আমিনিয়া’ও গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর আজরা গোলাম বলেন, ‘বাড়তে থাকা কমিশনের কারণে মুনাফা কমছে। তাই শুধুমাত্র অনলাইন প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর না করে বিকল্প বিক্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।’
তবে সব রেস্তোরাঁ মালিকের মত এক নয়। বাড়িতে তৈরি খাবার সরবরাহকারী সংস্থা ‘নানিঘর’-এর প্রতিষ্ঠাতা দেবজানি মুখার্জির মতে, রাইডার, প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস মিলিয়ে ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলির পরিচালন ব্যয় যথেষ্ট বেশি। তাই প্রায় ৩৩ শতাংশ কমিশনকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। তবে তাঁরও মত, প্ল্যাটফর্মে খাবারের দৃশ্যমানতা অনেকটাই অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীল, যা আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত।
এদিকে ক্রেতাদেরও অভিযোগ, অনলাইন অ্যাপে একই খাবারের দাম অনেক সময় রেস্তোরাঁর সরাসরি দামের তুলনায় বেশি থাকে। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও ধীর বলে তাঁদের দাবি। বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার কলকাতা শাখার তরফে জানানো হয়েছে, রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, অভিযোগ নিয়ে সুইগির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি।




