• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট জার্মানির যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল- পোলিশ রাষ্ট্রের বিলোপ সাধন ও পোলিশ জনগণকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধকরণ।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পূর্ব প্রকাশিতর পর

নাৎসি জার্মানির প্রতিক্রিয়াশীল ও আগ্রাসনমূলক লক্ষ্যের বিপরীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন অনুসরণ করছিল যুদ্ধের পরিত্রাণমূলক ও ন্যায্য উদ্দেশ্য। ঠিক এই কারণেই সোভিয়েত জনগণের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের সঙ্গে মিলিত হয় অন্যান্য জাতির ফ্যাসিজমবিরোধী মুক্তি সংগ্রাম।

Advertisement

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান উইলিয়াম ফস্টার লিখেছেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধে প্রবেশ যুদ্ধকে চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য প্রদান করল যা ছিল নাৎসিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উত্থিত গণতান্ত্রিক জাতিসমূহের বিজয়ের প্রতিশ্রুতি। প্রথমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধে প্রবেশ তার পশ্চিমী মিত্রদের বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ মিউনিখ নীতির পতন ঘটাল এবং এই যুদ্ধ পরিচালনার ব্যাপারে ফ্যাসিজমবিরোধী সুদৃঢ় এক নেতৃত্বের নিশ্চয়তা দিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলে ফ্যাসিজমের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল এবং যে কোনও মুহূর্তে হিটলারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করতে প্রস্তুত ব্রিটিশ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা কোনক্রমেই ফ্যাসিজমের সঙ্গে চূড়ান্ত সংগ্রামে লিপ্ত হত না। দ্বিতীয়ত, সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধে প্রবেশের ফলে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্ট্র্যাটিজির বাস্তবায়ন শুরু হল এবং তা যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণ করল…’

Advertisement

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ন্যায্য ও পরিত্রাণমূলক চরিত্রের উজ্জ্বল অভিব্যক্তি ঘটে দখলদার বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানে, যা পরে এশিয়া ও ইউরোপের অনেকগুলো দেশে জন-গণতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপান্তরিত হয়।

হিটলারবিরোধী জোটের তরফ থেকে যুদ্ধের ন্যায্য ও পরিত্রাণমূলক চরিত্র আগ্রাসক এবং সাম্রাজ্যবাদের ঔপনিবেশিক প্রভূত্বের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক ও পরাধীন দেশগুলোর জাতিসমূহের জাতীয়-মুক্তি সংগ্রামকে বিপুল ব্যাপকতা দিয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সম্রাজ্যবাদ যেমনটি পরিকল্পনা করেছিল যুদ্ধের আগুন ঠিক সেভাবে ছড়ায়নি। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে জেহাদের পরিবর্তে হিটলার সর্বাগ্রে আঘাত হানল ইঙ্গো-ফরাসি জোটের উপর। খ্যাতনামা ফরাসি রাজনীতিজ্ঞ এদুয়ার্দ এরিওর সূক্ষ্ম মন্তব্য মতে, ফ্যাসিস্ট জার্মানি এমন একটি কুকুরের মতো ছিল যা শৃঙ্খল মুক্ত হয়ে নিজের প্রভুকে দংশন করে।
পোল্যান্ডের পরে ফ্যাসিস্ট সৈন্য বাহিনী কর্তৃক অধিকৃত হয় ডেনমার্ক, নরওয়ে, হল্যান্ড, ফ্রান্স এবং বলকান উপদ্বীপের দেশসমূহ। ফ্রান্সে ও বেলজিয়ামে ব্রিটিশ অভিযানকারী সৈন্য দলগুলো পরাজয় বরণ করে। এভাবে সমাপ্ত হয় যুদ্ধের প্রথম পর্যায়।

১। জার্মান-পোলিশ যুদ্ধ (১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর)
পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট জার্মানির যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল- পোলিশ রাষ্ট্রের বিলোপ সাধন ও পোলিশ জনগণকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধকরণ। পোল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করার মাধ্যমে নাৎসিরা নিজেদের রণনৈতিক অবস্থান উন্নত করতে, অতিরিক্ত সামরিক-অর্থনৈতিক সম্পদ পেতে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর আক্রমণ চালানোর জন্য একটি পাদভূমি গড়তে চেষ্টা করছিল।
১৯৩৯ সালের ২১ মার্চ জার্মানি পোল্যান্ডের কাছে চূড়ান্ত দাবি রাখল: তাকে ডানজিগ (গদানস্ক) দিয়ে দিতে হবে এবং ‘পোলিশ করিডরে’ তার মোটর সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের অধিকার মেনে নিতে হবে। পোলিশ সরকার এই সমস্ত দাবি মানতে অস্বীকার করল।

(ক্রমশ)

Advertisement