পূর্ব প্রকাশিতর পর
দ্বিতীয় অধ্যায়: যুদ্ধ আরম্ভ।সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আগ্রাসনের প্রস্তুতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধায় সাম্রাজ্যবাদ। ৩০-এর বছরগুলোতে এই সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র— সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধ্বংস করার ইচ্ছায় আরও বেশি সমরবাদী ও আগ্রাসী হয়ে উঠে। কিন্তু পুঁজিতান্ত্রিক দুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়: এক দিকে থাকে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রসমূহের জোট আর অন্যদিকে— বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক দেশসমূহের জোট। আন্তর্জাতিক বাজার ও কাঁচামালের উৎস নিয়ে তাদের মধ্যে যে গভীর বিরোধ দেখা দেয় তা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রবৃত্তি জাগায়। সেই সঙ্গে পুঁজিতান্ত্রিক জোটগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করছিল সোভিয়েতবিরোধী মতাবস্থান, যা পশ্চিমী দুনিয়ায় এরূপ মোহ সৃষ্টি করেছিল যে ফ্যাসিস্ট আগ্রাসনে তাদের নাকি কোনও ক্ষতি হবে না।
Advertisement
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতিতে চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও ইতালির একচেটিয়ারা। তারা পুঁজিতান্ত্রিক দেশসমূহের সমগ্র সমাজ জীবনের সামরিকীকরণে আগ্রহী ছিল এবং সক্রিয়ভাবে সামরিক সংঘর্ষ বাধিয়ে তাতে ইন্ধন জোগাচ্ছিল। আর এর দরুন যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়ার এবং যুদ্ধে অধিক সংখ্যক দেশ ও জাতির জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল।
Advertisement
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরে, দুই সাম্রাজ্যবাদী জোটের মধ্যে: এক দিকে প্রধান ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রদ্বয়— জার্মানি আর ইতালির এবং অন্য দিকে গ্রেট ব্রিটেন আর ফ্রান্সের মধ্যে।
ফ্যাসিস্ট জোটের রাষ্ট্রগুলো প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী ও অন্যায় যুদ্ধ চালিয়ে যায়। প্রথমে তারা যদিও অন্যান্য পুঁজিতান্ত্রিক দেশগুলোর উপর হামলা করে তাদের আসল উদ্দেশ্য কিন্তু ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধ্বংস করা, কেননা এ দেশ তাদের বিশ্বাধিপত্য লাভের পথে বড় এক অন্তরায় ছিল।
তাছাড়া ফ্যাসিস্ট জোটের রাষ্ট্রসমূহ আপন ও অন্যান্য জাতিগুলোর মৌলিক স্বার্থ উপেক্ষা করে অতি অগণতান্ত্রিক লক্ষ্য অনুসরণ করছিল। আগ্রাসকরা বুর্জোয়া, মেহনতীদের আপন অধিকার রক্ষার্থে যে কোনও রকমের আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করছিল, রাজনৈতিক পার্টিগুলোকে ভেঙ্গে দিচ্ছিল ও নিষিদ্ধ করছিল, ট্রেড ইউনিয়ন ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের বিলোপ ঘটাচ্ছিল। ফ্যাসিস্টরা কমিউনিস্ট আর শ্রমিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিশেষ কঠোর ব্যবস্থা অবলম্বন করেছিল, — এ ধরনের আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক সংখ্যায় হত্যা করতে তারা দ্বিধা বোধ করত না।
সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী লক্ষ্য অনুসরণকারী ফ্যাসিস্ট জোটভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ বিশ্বাধিপত্য লাভের জন্য, ইউরোপ এশিয়া আফ্রিকা ও আমেরিকার দেশগুলোকে অধিকার ও অধীনস্থকরণের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। এতে প্রধান ভূমিকা পালন করছিল নাৎসি জার্মানি।
(ক্রমশ)
Advertisement



