পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখে বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ার বাজারে সতর্ক লেনদেনের ছবি দেখা গেল। তথ্যপ্রযুক্তি, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য এবং আর্থিক পরিষেবা সংস্থার শেয়ারে চাপ থাকায় দিনের শেষে সামান্য পতনে বন্ধ হল সেনসেক্স এবং নিফটি। তবে বাজারে বড় ধস নামেনি। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় টাকার অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।
দিনের শেষে নিফটি ৪.৩ পয়েন্ট বা ০.০২ শতাংশ নেমে ২৩,৬৫৪.৭ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে, সেনসেক্স ১৩৫.০৩ পয়েন্ট বা ০.১৮ শতাংশ পড়ে ৭৫,১৮৩.৩৬ পয়েন্টে পৌঁছয়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার প্রভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্ক মনোভাব দেখা গিয়েছে।
Advertisement
লেনদেন চলাকালীন তথ্যপ্রযুক্তি এবং আর্থিক খাতের একাধিক বড় সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল। সেনসেক্সে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে বাজাজ ফাইন্যান্স, ইনফোসিস এবং টেক মাহিন্দ্রার শেয়ার। নিফটিতেও বাজাজ ফাইন্যান্স, টেক মাহিন্দ্রা এবং হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের শেয়ারে পতন দেখা যায়।
Advertisement
তবে বৃহত্তর বাজারে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ছিল। নিফটি মিডক্যাপ সূচক সামান্য ০.০৪ শতাংশ নেমে গেলেও নিফটি স্মলক্যাপ সূচক ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে দিনের শেষে দৃঢ় অবস্থানে বন্ধ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট এবং মাঝারি সংস্থার শেয়ারে এখনও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় রয়েছে।
খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায় দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রে। অন্যদিকে রিয়েল এস্টেট এবং সিমেন্ট খাতে কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যায়। নিফটি সিমেন্ট সূচক দিনের শেষে ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্সকারী খাত হিসেবে উঠে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারের গতিপথ নির্ভর করবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জুন মাসের আর্থিক নীতি ঘোষণার উপর। পাশাপাশি আমেরিকা-ইরান আলোচনার অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং টাকার স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিন টাকার দামেও উল্লেখযোগ্য ঘুরে দাঁড়ানোর ছবি দেখা যায়। আগের লেনদেন পর্বে ডলারের তুলনায় টাকা প্রায় ৯৭ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার শর্ট কভারিংয়ের কারণে টাকার দাম প্রায় ৬৫ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৬.১৫ স্তরের দিকে এগোয়। একই সঙ্গে বাজারের অস্থিরতা সূচক ‘ইন্ডিয়াভিক্স’-ও ৩.৫ শতাংশ কমে ১৭.৮০ স্তরে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের ওঠানামা কিছুটা কমলে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে।
Advertisement



