আন্তর্জাতিক আর্থিক চাপের জেরে বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম নেমে পৌঁছল সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে। বাজারে এদিন এক ডলারের জন্য খরচ করতে হয়েছে ৯৫.২৩ টাকা, যা আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পিছনে মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভ-এর কঠোর আর্থিক নীতি। এদিন একদিনেই টাকার মূল্য প্রায় ০.৪ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত টাকার পতন ৫ শতাংশেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় ভারতের আমদানি খরচ বেড়েছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই টাকার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধের আশঙ্কা তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভারতীয় মুদ্রার দামে।
Advertisement
এছাড়াও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির সংগঠন ওপেক-এর উৎপাদন নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন। মার্কিন তেলের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
Advertisement
বিশ্ব অর্থনীতির দিক থেকেও পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়ায় ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বন্ডের রিটার্ন বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সেই দিকেই ঝুঁকছেন। এর ফলে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলি থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
টাকার এই দুর্বলতা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কারণ, মুদ্রার মান কমে গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাভ কমে যায়। নতুন বিনিয়োগ আসার গতি কমে যেতে পারে। পাশাপাশি আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে টাকার অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে তেলের দামের গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক নীতির উপর। যদি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে এবং বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর থাকে, তাহলে টাকার ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
Advertisement



