• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 8 June, 2026

ফের পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ১০ টাকা পর্যন্ত

পেট্রোল ও ডিজেলের দামে নতুন করে বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য ফের বাড়তে পারে জ্বালানির খরচ। পেট্রোল ও ডিজেলের দামে নতুন করে বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির (ওএমসি) আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই চাপ সামাল দিতেই আগামী দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আরও বাড়ানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এক দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্য প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে লিটার প্রতি প্রায় ৭.৫ টাকা দাম বেড়েছে। কিন্তু এত বড় মূল্যবৃদ্ধির পরেও তেল বিপণন সংস্থাগুলির ক্ষতি পুরোপুরি কমেনি বলে জানা গিয়েছে।

সংস্থা সূত্রে দাবি, বর্তমানে পেট্রোল বিক্রিতে লিটার প্রতি গড়ে প্রায় ৫.৫ টাকা এবং ডিজেল বিক্রিতে প্রায় ৪.৫ টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬১০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তেল সংস্থাগুলির। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উঁচু স্তরে অবস্থান করায় এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

তেল সংস্থাগুলির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি আরও অন্তত ৫ টাকা বাড়ানো গেলে বর্তমান ক্ষতির একটি বড় অংশ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে সংস্থাগুলির আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য ফিরে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে সমস্যাটা শুধু পেট্রোল ও ডিজেলেই সীমাবদ্ধ নয়। রেটিং সংস্থা আইসিআরএ-র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে প্রায় ৬৮০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেল সংস্থাগুলি। একইভাবে বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ) বিক্রিতেও প্রতিদিন প্রায় ৯৩ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে অনুমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে বর্তমান উচ্চস্তরে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ক্রিসিল রেটিংসের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেল সংস্থাগুলি যদি তাদের আর্থিক ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে মূল্য সংশোধনের পথে হাঁটে, তাহলে আগামী দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি আরও ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মানেই পরিবহণ খরচ বাড়া, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে পেট্রোল-ডিজেলের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি শুধু যানবাহন ব্যবহারকারীদের নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের উপরও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।