আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম। বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৮ ডলারে পৌঁছে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আমেরিকার নতুন হামলার খবর সামনে আসতেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ৩.৫১ ডলার বা ৩.৭২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৭.৮০ ডলারে পৌঁছয়। একইসঙ্গে অগস্ট মাসের জন্য বেশি লেনদেন হওয়া ব্রেন্ট চুক্তির দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫.৬৪ ডলার প্রতি ব্যারেল। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৩.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯২.০২ ডলারে পৌঁছেছে।
Advertisement
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র একদিন আগেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল। তখন বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা কমলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলেই মনে করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।
Advertisement
কিন্তু পরিস্থিতি ফের বদলে যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে চলা আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন। একইসঙ্গে হোয়াইট হাউস ইরানের সেই দাবি খারিজ করে দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ় প্রণালীর তত্ত্বাবধান করবে তেহরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের এমন একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে হরমুজ় প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এর আগেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে হামলা চালিয়েছিল ওয়াশিংটন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়। ফলে ওই এলাকায় সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
Advertisement



