সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ০-২-এ হেরে বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর এখন নিজেদের কৌশলগত ও টেকনিকের ভুলের জন্য আক্ষেপ করছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা এমবাপে—স্বীকার করেন, এই ম্যাচে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স তাঁকে প্রচণ্ড হতাশ করেছে।
‘আমার মনে হয় না আমরা যে ধরনের ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম, সেটা খেলতে পেরেছি—কৌশলগত দিক থেকে হোক, টেকনিকের দিক থেকে হোক কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্সের মানের বিচারে,’ ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম এম৬-কে বলেন এমবাপে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারি, তা হলে জেতা সম্ভব নয়। আমাদের লক্ষ্য ছিল ওদের নিজেদের অর্ধেই চেপে ধরা, যাতে তারা নিজেদের স্বাভাবিক ধীরস্থির ছন্দে বলের দখল নিয়ে খেলতে না পারে। কারণ ম্যাচের গতি ও বলের নিয়ন্ত্রণে ওরা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা তাতে ব্যর্থ হয়েছি’।
ফ্রান্সের সেমিফাইনালে ওঠার অভিযানে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে উঠে এসেছিলেন এমবাপে। দুরন্ত আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি করেছিলেন আটটি গোল, যা বিশ্বজোড়া ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছিল।
তবে ২৭ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডের টানা আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন থেমে যায় টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে। সেখানে স্পেনের কাছে সব বিভাগেই পিছিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিতে হয় লে ব্লুদের।
এমবাপের মতে, ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মূলত মাঝমাঠের লড়াইয়ে। সেখানে ফ্রান্সের আদ্রিয়েন রাবিয়ো এবং অরেলিয়াঁ চুয়ামেনির জুটি দ্রুতই স্পেনের রদ্রি, দানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইজের ত্রয়ীর কাছে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।
‘মাঝমাঠে বারবারই আমরা ৩ বনাম ২ পরিস্থিতিতে পড়ে যাচ্ছিলাম,’ বলেন এমবাপে, ‘আর স্পেনের মতো দলের বিরুদ্ধে এটা বড় সমস্যা। সব মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত আমাদের হারতে হয়েছে। এটা ভীষণ হতাশাজনক।’
তবে এই তিক্ত হার থেকে শিক্ষা নিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ফ্রান্স শিবির। এমবাপের কথায়, এই পরাজয়ের কারণগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
‘ফাইনালে ওঠা আমাদের স্বপ্ন ছিল। আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের দেশের মানুষকে আরও একবার স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিতে এবং ইতিহাস গড়তে,’ বলেন এমবাপে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের এই বাস্তবতাকে মাথা উঁচু করেই মেনে নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, জিতলে যেমন মাথা উঁচু করে জিততে হয়, তেমনই হারলেও মাথা উঁচু করেই হার মেনে নিতে হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে হতাশা ভীষণ গভীর। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না, আমি এবং গোটা দল কতটা হতাশ।
তবুও, কথাগুলো হয়তো কিছুটা যান্ত্রিক শোনাবে, কিন্তু আমাদের আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। ছুটিতে যেতে হবে, তারপর নতুন করে শুরু করতে হবে। কারণ ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। এই ব্যর্থতাকে পিছনে ফেলে শিক্ষা নিয়ে আবারও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে’।




