• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

শিল্পে আস্থার হাওয়া, শুভেন্দুর জমি-নীতিকে স্বাগত দুই শীর্ষ বণিকসভার

শিল্পনীতির উপর সরকারের জোর দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সএবং মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

শিল্পে আস্থার হাওয়া, শুভেন্দুর জমি-নীতিকে স্বাগত দুই শীর্ষ বণিকসভার

photo source- ANI

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্পায়ন ও জমি-নীতি নিয়ে একাধিকবার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তা ইতিমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলতে শুরু করেছে শিল্পমহলে। বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, স্থানীয় মানুষের স্বার্থরক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী শিল্পনীতির উপর সরকারের জোর দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের দুই প্রভাবশালী বণিকসভা বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিআই) এবং মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।

 

শুক্রবার পৃথক বিবৃতিতে দুই সংগঠনই জানিয়েছে, শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে নতুন সরকারের উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে টাটা গোষ্ঠীকে ফের বাংলায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টাকে তারা শিল্প পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনাময় সূচনা হিসেবে দেখছে।

 

বেঙ্গল চেম্বারের ডিরেক্টর জেনারেল শুভদীপ ঘোষ বলেন, সরকারের সদিচ্ছা এবং বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ আনার প্রচেষ্টা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাঁর মতে, শুধুমাত্র বিনিয়োগের ঘোষণা নয়, সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর সরকারের জোর দেওয়াই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে বিসিসিআই।

 

অন্যদিকে, এমসিসিআই তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য টাটাদের মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একইসঙ্গে, শিল্পের স্বার্থে জমি-নীতি পুনর্বিবেচনা ও সংস্কারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছে তারা। বণিকসভার মতে, দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পমহল এমন একটি স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগ-বান্ধব জমি নীতির দাবি জানিয়ে আসছিল, যেখানে জমির মালিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।

 

তবে শিল্পমহলের একাংশ এখনও ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ অবস্থানেই রয়েছে। তাঁদের মতে, সরকারের সদর্থক বার্তা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক হলেও নতুন নীতির সুনির্দিষ্ট কাঠামো, আইনি প্রক্রিয়া এবং জমি সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এবং শিল্পমন্ত্রকের একযোগে শিল্পবান্ধব অবস্থান লগ্নিকারীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

 

শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ, নতুন সরকারকে নীতি বাস্তবায়নের জন্য কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন। আগামী দিনে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ কত দ্রুত তৈরি করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলার শিল্পায়নের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য।