• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 12 September, 2026

‘আমি পড়াশোনা জানি না বলে সবসময় অপমান করে’, দলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন রেখা

অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার সংস্কৃতিকেও কটাক্ষ করেছেন হিঙ্গলগঞ্জের জনপ্রতিনিধি। এই ক্ষোভ উগরে

‘আমি পড়াশোনা জানি না বলে সবসময় অপমান করে’, দলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন রেখা

BJP MLA Rekha Patra Photo-ANI

সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ। প্রধানমন্ত্রীর চোখে তিনি শক্তিস্বরূপা। এখন তিনি বিজেপি বিধায়ক। রাজনীতির পথে পা রেখেই মিলেছে রাতারাতি সাফল্য। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করতে হয়নি। বিধায়ক হয়ে আগের থেকে ভাল থাকবেন ভেবেছিলেন। সেখানে এখন তাঁকে নিজের বাপেরবাড়ির জমির জন্য পথে নেমে লড়াই করতে হচ্ছে। আবার দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বং অপমান সহ্য করতে হচ্ছে। হ্যাঁ, তিনি হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। এবার দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই বিস্তর অভিযোগ তুলে সরব হলেন রেখা পাত্র। পুঁথিগত শিক্ষা তাঁর নেই। ডিগ্রি, ডিপ্লোমা কিছুই নেই। আর সেই অভাবকে অস্ত্র করে বাসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের একটি অংশ তাঁকে ক্রমাগত অপমান করছে বলে অভিযোগ তুললেন তিনি। এমনকী জেলা নেতৃত্বের এই ‘অপমান’ করার বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে ন্যায়বিচারের আর্জিও জানিয়েছেন রেখা।

এদিকে সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের দাপটের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল সেটার অন্যতম মুখ ছিলেন রেখা পাত্র। এরপরই বিজেপি তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার টিকিট দেয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে হিঙ্গলগঞ্জে বিধায়ক হন রেখা পাত্র। কিন্তু তারপরেও তাঁকে কোণঠাসা করা হচ্ছে এবং অপমান করা হচ্ছে বলে জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এবার বোমা ফাটালেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক। পড়াশোনা জানেন না বলে নিজের দলের নেতাদের কাছেই অপমানিত হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এবার গোটা বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে রেখা পাত্রের অভিযোগ, ‘জেলা থেকে আমাকে ভুল পথে চালিত করা হয়। তাই আমি জেলার কোনও অনুষ্ঠানে যাই না। নিজের বিধানসভায় থেকে কাজ করি। এটা আমার দল, আমি এতদিন কিছু বলিনি। দলের কাছে যেন বার্তাটা পৌঁছয়। দল যেন ঠিকঠাক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি পড়াশোনা জানি না বলে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার কমিটি আমাকে ভুল পথে চালিত করে। সবসময় অপমান করে। অনুষ্ঠানে ডেকেও অপমান করা হয়।’

অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার সংস্কৃতিকেও কটাক্ষ করেছেন হিঙ্গলগঞ্জের জনপ্রতিনিধি। এই ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় এখন রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একের পর এক তোপ দেগে রেখা পাত্রের দাবি, ‘অনেকে বড় নেতা হওয়ার জন্য সমাজমাধ্যমে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। আমি রাজনীতি করতে আসিনি, মানুষের সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘণ্টা কাজ করি। প্রচার করি না। আমি সব জায়গায় যাই। হয়তো সমাজমাধ্যমে সব পোস্ট করা হয় না। আমি সেই সমস্ত নেতার মতো নই, যাঁরা রাজনীতিতে ভেসে থাকার জন্য সারাক্ষণ নিজেকে সমাজমাধ্যমে ভাসিয়ে রাখেন। আমার দপ্তরে ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভিড় হয়। মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে আসে।’

তাছাড়া জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা অভিযোগ তুলেও দলের ভাবমূর্তি বা শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থার ঘাটতি যে তাঁর নেই সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রেখা পাত্র। বিজেপি সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখও হয়েছেন রেখা পাত্র। তাই হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়কের কথায়, ‘সাংগঠনিক জেলা কী করল, মণ্ডল স্তরে বা বুথ স্তরে কর্মীরা কে কী করল, তার জন্য দল থেমে থাকে না। দল তার মতো চলে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার আরও উচ্চস্তরে যাবে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার কাজ করছে। বিজেপি সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে।’