প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারকে এবারে পার্ট টাইম নন এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করল এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক। এই ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তী কয়েকদিন আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। আসলে ব্যাক্তিগত কারণ ও পেশাগত সমস্যা এই দুই জটিলতার কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
আর তারপরে বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নিল এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ। নন এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব থাকবে ব্যাঙ্কের বোর্ডকে সচল রাখা, পাশাপাশি একাধিক পরিকল্পনা ও পরিচালনার বিষয়ে নিজের মতামত দেওয়া। এছাড়াও ব্যাঙ্কের প্রতিদিনের কাজের উপরে নজর রাখা। তার এই নতুন নিয়োগের ফলে মনে করা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাঁচিয়ে রাখা আর সেই সঙ্গে প্রশাসনিক খাতের সঙ্গে ব্যাঙ্কিং সেক্টরের একটি সাযুজ্য রাখা। যেখানে ভারতের পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের পরিষেবাকে আরও সহজ করা যায়। আর সেই সঙ্গে শেয়ার বাজারেও গুরুত্ব রাখা যায়।
আরও পড়ুন: নতুন মাইলস্টোন তৈরি করল এইচডিএফসি
১৯৮৪ সাল থেকে রাজীব কুমার নিজের প্রশাসনিক কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। বিহার ক্যাডারের একজন আইএএস অফিসার ছিলেন তিনি। বর্তমানে ঝাড়খন্ড ক্যাডার। পরবর্তী ৪ দশকে অর্থ, ব্যাঙ্কিং, পাবলিক পলিসি সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
২০১৭-২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যাঙ্কিং সেক্টরে একাধিক রিফর্মের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। হয়েছিলেন ফাইনান্স সেক্রেটারিও। পরবর্তীতে যখন একাধিক পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক ব্যাড লোন, খারাপ ব্যালেন্স শিটের কারণে রীতিমত নাজেহাল হয়ে পড়েছিল সেই সময় ওই সকল পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক গুলিকে বাঁচানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তৈরি করেছিলেন ৪আর স্ট্র্যাটেজি।
তার কাজের সময়ে পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলির মূলধনের পরিমাণ ৩ ট্রিলিয়ন ভারতীয় টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ও নাবার্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ২০২১ সালে ফাইনান্স সেক্রেটারি হিসেবে পদত্যাগ করেছিলেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইলেকশন কমিশনে যোগ দিয়েছিলেন কমিশনার হিসেবে। ২০২২ সালে চিফ ইলেকশন কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। তারপরেই একাধিক রাজ্যের নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি বাছাই নির্বাচন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ও জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন সফলভাবে পালন করেছিলেন।
২০২৪-২০২৫ সালে তিনিও পড়েছিলেন আতসকাঁচের নীচে। বিরোধীরা তাঁর কাজের ধরণ নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল তিনি লাগাতার বিজেপিকে সুবিধা দিয়েছেন। কিন্তু নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ তিনি খারিজ করে দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে নিজের বিদায়ী সংবর্ধনাতে বলেছিলেন নির্বাচন কমিশনকে লাগাতার বলির পাঁঠা করা হচ্ছে। যা ঠিক নয়। পাশাপাশি এও বলেছিলেন যে সসকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যোগদান করেছিল। কিন্তু যেভাবে নির্বাচন কমিশনকে বারবার কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছিল তাতে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে আঘাত লেগেছিল।




