স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময়কে পাখির চোখ করে উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মত প্রকাশ করলেন দেশের প্রযুক্তি ও গবেষণা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভারত ভবিষ্যতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত রাষ্ট্র হিসেবে উঠে আসতে পারে। দ্রুত গতিতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সেই লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী গবেষণা ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা বিনয় কুমার সিং জানান, ‘ভারত যখন ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে, তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে। এই প্রযুক্তি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনবে।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিকে গুরুত্ব না দিলে উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ভারতও সেই পথেই দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এই সম্মেলন দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Advertisement
অন্যদিকে, নৈনিতালের কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেওয়ান সিং রাওয়াত বলেন, ‘এই সম্মেলনে ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।’ তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নেই নয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্ব প্রযুক্তি মানচিত্রে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিষেবার মান উন্নয়ন এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দেশের উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
Advertisement



