• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 2 June, 2026

এআই নিয়ে বড় পদক্ষেপ গুগলের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করল গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করল গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই পরিষেবা সম্প্রসারণের জন্য তারা প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করবে। প্রযুক্তি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার অ্যালফাবেট এক বিবৃতিতে জানায়, এআই-ভিত্তিক পরিষেবা ও সমাধানের চাহিদা বর্তমানে সংস্থার বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। কর্পোরেট গ্রাহক থেকে সাধারণ ব্যবহারকারী—সব ক্ষেত্রেই এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাহিদা পূরণ করতে বৃহৎ পরিসরে ডেটা সেন্টার, কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং ক্লাউড পরিষেবায় বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই কারণেই এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করা হবে বিশিষ্ট বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের নেতৃত্বাধীন সংস্থা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের কাছে। বাকি ৭০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্ডাররাইটেড অফারিং এবং খোলা বাজারে ধাপে ধাপে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে।

Advertisement

বর্তমানে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সংস্থার এআই ব্যবসার মধ্যে রয়েছে জেমিনি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট, ক্লাউড পরিষেবা এবং উন্নত ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক। গত আয়ের হিসাব প্রকাশের সময় সংস্থা জানিয়েছিল, চলতি বছরে তাদের মূলধনী ব্যয় ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছতে পারে। ২০২৭ সালে সেই ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে এখন বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে কার্যত এক দৌড় শুরু হয়েছে। অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফ্ট, অ্যামাজন এবং মেটা—সবকটি সংস্থাই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। গোল্ডম্যান স্যাকসের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই চার প্রযুক্তি জায়ান্ট সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার এআই-সম্পর্কিত মূলধনী বিনিয়োগ করতে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞ ট্রয় হুপারের মতে, এআই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া এখন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছে অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “কম বিনিয়োগ ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক, আর বেশি বিনিয়োগ কেবল ব্যয়সাপেক্ষ।” তাই অ্যালফাবেটের এই বিশাল তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে শুধু উন্নত অ্যালগরিদম দিয়ে নয়, বরং সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর কম্পিউটিং অবকাঠামোর মালিকানা কার হাতে রয়েছে, তার উপরও।

 

Advertisement