চলে গেলেন বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন। অসুস্থতার জন্য ভর্তি ছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে। রবিবার সকাল ৯.৫৫ নাগাদ প্রয়াত হন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে এমনটাই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পেয়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছিল যে তাঁকে রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। পরিচালকের ঝুলিতে রয়েছে তিনটি জাতীয় পুরস্কার। অজস্র জনপ্রিয় ধারাবাহিক উপহার দিয়েছেন দর্শককে। তালিকায় ‘কলকাতা কলকাতা’, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ প্রভৃতি। তাঁর পরিচালিত ধারাবাহিক ‘সুবর্ণলতা’ এখনও দর্শকের অত্যন্ত প্ৰিয়।
পরিচালকের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী পাপিয়া সেন বলেন, ‘ভাসুর এসেছেন মুম্বই থেকে। দাদা সব্যসাচী চক্রবর্তী রয়েছেন। ছোট মেয়ে রয়েছে। বড়মেয়ে জার্মানিতে থাকে। বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। আর ফিরতে পারবে না। দাদা, ভাসুর, মেয়ে মিলে যা ঠিক করবে তাই হবে।’
বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, বেশ কয়েকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ভেন্টিলেশনে ছিলেন। জানান, ‘আর একবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হল। ধীরে ধীরে একাধিক অঙ্গ বিকল হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা খুবই চেষ্টা করেছিলেন। তা-ও শেষরক্ষা হল না।’
কোমরে চোট নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও ক্রমশ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। হাসপাতালেই তার ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়। হৃদ্রোগেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত সোমবার পরিচালককে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করানো হয়। এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিডনিরও সমস্যা দেখা দেয়। সেখানেই ভেন্টিলেশনে ছিলেন পরিচালক।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ৭০ পূর্ণ করেন রাজা। ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দামু’ ছবি সেরা শিশুচলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার জেতে। সেই ছবির পরিচালক রাজা সেন। এর পরে ‘আত্মীয় স্বজন’, ‘চক্রব্যূহ’, ‘দেবীপক্ষ’, ‘তিনমূর্তি’— অজস্র ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। তিন বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন পরিচালক। ১৯৮৭ সালে তাঁর তৈরি ‘সুবর্ণলতা’ ধারাবাহিক বিপুল জনপ্রিয় হয়। এর পর ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘আরোগ্য নিকেতন’-এর মতো একাধিক ধারাবাহিক পরিচালনা করেন। সুদীর্ঘ কেরিয়ারে একাধিক ধারাবাহিক ও ছবি পরিচালনা করেছেন। তৈরি করেছেন বেশ কিছু তথ্যচিত্রও। রাজার ঝুলিতে রয়েছে ‘দেশ’-এর মতো ছবি। এই ছবিতে অভিনয় করেন জয়া বচ্চন এবং অভিষেক বচ্চন। অভিনেতা জিতের কেরিয়ারে প্রথম অন্য ধারার ছবি ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’-এর পরিচালক ছিলেন রাজা। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় রাজা পরিচালিত ছবি ‘ভালবাসার গল্প’।
২০১৬ সালে মুক্তি পায় ‘মায়ামৃদঙ্গ’। সেই ছবির শুটিংয়ের সময় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। কোমরে বড় চোট পান। তখন তেমন গুরুত্ব দেননি পরিচালক। এড়িয়ে গিয়েছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পরিচালকের অস্ত্রোপচার হয়। যদিও অস্ত্রোপচারের পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। সম্প্রতি বাড়িতে পড়ে গিয়ে ফের চোট পান।




