গঙ্গার বাঁধ কাটার কাজের জেরে ফের বিপর্যস্ত মালদহ ডিভিশনের রেল পরিষেবা। সাহেবগঞ্জ-বারহারওয়া শাখায় সাকরিগলি ও মহারাজপুর স্টেশনের মাঝের এলাকায় গঙ্গার বাঁধ কাটার কাজ চলছে। তার প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলে। বাতিল করা হয়েছে একাধিক ট্রেন। কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও বদল করা হয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা।
রেল সূত্রে খবর, ৬৩০৭৩ রামপুরহাট-সাহেবগঞ্জ এবং ৬৩৪০৬ সাহেবগঞ্জ-রামপুরহাট মেমু বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বর ৬৩০৭৪ সাহেবগঞ্জ-রামপুরহাট মেমু এবং ১৩৪২৮ সাহেবগঞ্জ-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসও বাতিল থাকবে।
বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাপথও পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৩৪১০ কিউল-মালদহ টাউন এক্সপ্রেস মালদহ টাউনের পরিবর্তে সাহেবগঞ্জ পর্যন্ত চালানো হবে। ১৩০২৪ গয়া-হাওড়া এক্সপ্রেস এবং ১৩৪০৪ ভাগলপুর-রাঁচি বনাঞ্চল এক্সপ্রেসেরও যাত্রাপথে পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৩০৭২ জামালপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস ভাগলপুর-দুমকা-রামপুরহাট হয়ে চলবে। ১৫৬৫৭ দিল্লি-কামাক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্র মেল এবং ১৫৭৪৪ বাথিন্ডা-বালুরঘাট ফরাক্কা এক্সপ্রেসের যাত্রাপথেও বদল আনা হয়েছে। ফরাক্কা এক্সপ্রেস জামালপুর-মুঙ্গের-কাটিহার হয়ে চলাচল করবে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই মালদহ ডিভিশনের নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আপ লাইনে ধস নামায় বিপর্যস্ত হয়েছিল রেল পরিষেবা। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ কার্যত থমকে যায়। বাতিল হয় একাধিক ট্রেন। বেশ কিছু ট্রেনকে ঘুরপথে চালাতে বাধ্য হয় পূর্ব রেল। চরম ভোগান্তিতে পড়েন বহু যাত্রী।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু করেছিল রেল। প্রায় ৬২ ঘণ্টার চেষ্টার পর নিউ ফরাক্কায় রেল লাইনের ধস মেরামতের কাজ শেষ হয়। কী কারণে ওই এলাকায় ভূমিধস হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্য নেওয়া হয়।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মালদহ ডিভিশনে রেল পরিষেবায় ছন্দপতন। এবার গঙ্গার বাঁধ কাটার কাজের প্রভাব পড়ল রেল চলাচলে। ফলে বাতিল ও পথবদল হওয়া ট্রেনের জেরে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়ল।




