• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 30 July, 2026

পদত্যাগ করলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ

তিনি কোচবিহারের মহকুমা শাসক গোবিন্দ নন্দীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন

পদত্যাগ করলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ

কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে শনিবার ইস্তফা দিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এ দিন তিনি কোচবিহারের মহকুমা শাসক গোবিন্দ নন্দীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও ইস্তফার নির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর সরে দাঁড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনাই শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ নিল শনিবার।

রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ইস্তফার পরেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা। সূত্রের খবর, কোচবিহার পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার দিলীপ সাহাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আগামী ১৩ জানুয়ারি কোচবিহারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ওই সভার পরেই পুরসভার নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কোচবিহার পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল জয়ী হওয়ার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান হন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। প্রথম দু’বছর তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নেই তাঁর কাজকর্ম চললেও ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই সমস্যা শুরু হয় বলে অভিযোগ। দলের জেলা সভাপতি তথা কাউন্সিলার অভিজিৎ দে ভৌমিকের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে কোচবিহার শহরে পুরকর বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তীব্র হয়। জেলা সভাপতি এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ করায় কোচবিহারে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।

পরে ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গেও পুরসভার সংঘাত তৈরি হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন গত নভেম্বরে জেলা সভাপতি নিজেই মেসেজ করে রবীন্দ্রনাথকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে সূত্রের দাবি। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, দলনেত্রীর নির্দেশ না পেলে তিনি পদত্যাগ করবেন না। অবশেষে সেই টানাপড়েনের মাঝেই শনিবার ইস্তফা দিলেন তিনি।

যদিও এখনও পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দলের বিশ্বস্ত কর্মী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিক। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনেই তিনি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।’