পশ্চিমবঙ্গে এখন ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর সব বিরোধীদের একছাতার তলায় আসার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী-সহ দেশের তামাম বিরোধীরা। সেখানে এবার কপালে ভাঁজ ফেলতে খোদ পশ্চিমবঙ্গের বুকে দলীয় কার্যালয় খুলল থলপতি বিজয়ের দল টিভিকে। পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরে নতুন দলীয় কার্যালয় খোলা হয়েছে। এবার কি পশ্চিমবঙ্গের ভোটেও অংশ নেবে টিভিকে? উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে এখনও খোলসা করে কিছুই জানানো হয়নি। তবে আপাতত রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে সামাজিক কাজই করবে তারা বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তামিলনাড়ুতে সরকার গড়েছে টিভিকে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আছেন থালাপতি বিজয়। এমনকী অভিনেতা হিসেবেও বিজয়ের প্রবল জনপ্রিয়তা আছে। ২০২৬ সালে তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় আসার পর এবার পশ্চিমবঙ্গে দলীয় কার্যালয় খুলল তামিলাগা ভেত্রি কাড়াগম (টিভিকে)। এখানের নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই পারে। এই বিষয়ে টিভিকে’র রাজ্য কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায় বলেন, ‘প্রথমে আমরা সমাজমাধ্যমে প্রচার করব। পরে মানুষের সুবিধা অসুবিধার কথা শোনার জন্য জনসংযোগে জোর দেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষা এবং চাকরি। আমরা চাই টিভিকে নির্বাচনে অংশ নিক। তবে সবটাই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কী চাইছেন সেটার উপর নির্ভর করবে। আর কোন নির্বাচনে আমরা লড়ব সেটা আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বই সিদ্ধান্ত নেবে।’
অন্যদিকে রবিবার পূর্ব বর্ধমানের ফাগুপুরে দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিভিকে-র পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের কো-অর্ডিনেটর চৈতালি রায়-সহ একাধিক জেলার দলীয় নেতৃত্ব। দলীয় নেতৃত্ব এখানে দাবি করেন, আপাতত রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে সামাজিক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো তাঁদের মূল লক্ষ্য। চৈতালি রায় জানান, তামিলনাড়ু থেকে নির্দেশ আসার পরই রাজ্যে টিভিকে সংগঠন তৈরি করেছে। কবে আসবেন বিজয়? এই বিষয়ে অবশ্য চৈতালি রায় জানান, এখনই দিনক্ষণ নিশ্চিত হয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গে টিভিকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে নিশ্চয়ই দক্ষিণী তারকা আসবেন এখানে।
তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০০০ সমর্থক আছেন বলে জানিয়েছেন চৈতালি। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে টিভিকে-র সাংগঠনিক কার্যকলাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। আগামী দিনে জেলার নানা প্রান্তে সংগঠন বিস্তার এবং সামাজিক কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তাঁরা। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে ১০৮টি আসন পায় বিজয়ের দল। অল্পের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের ঝুলিতে গিয়েছে ৭৩টি আসন। এআইএডিএমকে জোট পেয়েছে ৫২টি আসন। শেষে কংগ্রেস জোটসঙ্গী ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে সরকার গড়তে টিভিকে-কে সমর্থন করে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও তাদের জাল বিস্তার করতে শুরু করল টিভিকে। যদিও তাতে বিজেপির আপাতত চাপ নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।




