• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 9 July, 2026

তৃণমূলের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে, ‘বাংলার মানুষ পরিবর্তন চান’ বার্তা শমীকের

নেতাদের স্বাগত জানিয়ে শমীক বলেন, বাংলার মানুষ কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের রাজনীতি নয়, সমন্বয়ের রাজনীতি চান। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলে উন্নয়নের গতি অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব

তৃণমূলের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে, ‘বাংলার মানুষ পরিবর্তন চান’ বার্তা শমীকের

Photo: Representational Image

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। কলকাতার বিজেপির রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, এই যোগদান প্রমাণ করছে যে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

নেতাদের স্বাগত জানিয়ে শমীক বলেন, বাংলার মানুষ কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের রাজনীতি নয়, সমন্বয়ের রাজনীতি চান। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলে উন্নয়নের গতি অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব। আসাম, ত্রিপুরা ও ওড়িশার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার সেই উন্নয়নের মডেল ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠা করেছে।

বামফ্রন্ট ও তৃণমূল—দুই আমলেই পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বর্তমান বিজেপি সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনী ইস্তাহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কোভিড-পরবর্তী সময়ে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন তৃণমূল এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। ১০ জুন একই পথ অনুসরণ করেন সুস্মিতা দেব এবং ১১ জুন পদত্যাগ করেন প্রকাশ চিক বরাইক। তিন জনই তৃণমূলের মনোনয়নে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পরই তাঁরা একে একে দল ছাড়েন। সুখেন্দু ও প্রকাশের রাজ্যসভার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৮ অগস্ট পর্যন্ত ছিল, আর সুস্মিতা দেবের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০৩০ সালের ২ এপ্রিল।

বিজেপিতে যোগ দিয়ে সুস্মিতা দেব বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উন্নয়ন তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে দুর্নীতি এখন শিকড় গেড়ে বসেছে। তাঁর দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যেই বিজেপির নেতৃত্বে বাংলায় বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।

সুখেন্দুশেখর রায়ের বক্তব্য, মোদী সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডই তাঁকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে। তাঁর বিশ্বাস, পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিক পালাবদলের পথ সুগম হবে। অন্যদিকে প্রকাশ চিক বরাইক জানান, রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তবে আসন্ন রাজ্যসভার উপনির্বাচনে এই তিন নেতার মধ্যে কাউকে বিজেপি প্রার্থী করবে কি না, সে বিষয়ে দল এখনও কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, তিনটি শূন্য রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য ১৪ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ১৫ জুলাই হবে মনোনয়নপত্র যাচাই, ১৭ জুলাই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটগ্রহণ এবং গণনা হবে ২৪ জুলাই, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূল যদি এই উপনির্বাচনে প্রার্থী না দেয়, তবে তিনটি আসনই বিজেপির দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সে ক্ষেত্রে রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্যসংখ্যা বেড়ে হবে ১১৭ এবং এনডিএ-র মোট আসন দাঁড়াবে ১৫৫।