ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লর্ডস টেস্ট শুরুর আগে বড় লক্ষ্যের সামনে মহিলা ক্রিকেট দল। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের বিশ্বাস, ক্রিকেটের মক্কায় দলের জয় শুধু ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে না, সাম্প্রতিক টি-২০ বিশ্বকাপের হতাশাও অনেকটাই মুছে দেবে।
লর্ডসে প্রথমবার হতে চলেছে মহিলা টেস্ট ম্যাচ। ১৪২ বছর আগে এখানে প্রথম পুরুষদের টেস্ট হলেও, এতদিনে এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে মহিলাদের টেস্টের আয়োজন হচ্ছে। ফলে ম্যাচটিকে ঘিরে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে হরমনপ্রীত বলেন, “আমার মনে হয়, এই টেস্ট ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই বড় একটা মুহূর্ত। কারণ, আমরা যদি এই টেস্টে জিততে পারি, তাহলে সেটা দলের জন্য ভীষণ ভালো হবে। টি-২০ বিশ্বকাপের পর সবাই খুবই হতাশ ছিল, কারণ আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি।”
ভারত অধিনায়ক আরও বলেন, “কিছু কিছু সময় আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দল হিসেবে আমরা ততটা ভালো করতে পারিনি। তবে এই টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু পুষিয়ে নিতে পারি। আমরা আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে পারি। তখন মনে হবে, আমরা বিশ্বের সেরা দল।”
তিনি মনে করেন, এই টেস্ট ভারতের জন্য নতুন শুরুর মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে। হরমনপ্রীতের কথায়, “কখনও কখনও সবকিছু পরিকল্পনামাফিক না হলে মনটা একটু ভেঙে যায়। তাই এই টেস্ট ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা একসঙ্গে খেলি, একে অপরকে সমর্থন করি এবং দলকে জেতাতে পারি, তাহলে এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ফিরিয়ে দেবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলিতেও এটা আমাদের অনেক সাহায্য করবে। আর এই মাসটা আমাদের জন্য সত্যিই ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে।”
লর্ডসে খেলাকে প্রতিটি ক্রিকেটারের স্বপ্ন বলে উল্লেখ করে ভারত অধিনায়ক বলেন, “আমাদের সবার জন্যই এটা খুব বড় একটা মুহূর্ত। অধিনায়ক হিসেবে এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি এই সুযোগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। ছোটবেলা থেকেই আমরা টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখি, আর লর্ডসে খেলা সেই স্বপ্নগুলোর অন্যতম। এই সুযোগ পাওয়ায় আমি খুবই খুশি। দলের অন্য মেয়েরাও ভীষণ উচ্ছ্বসিত। দল হিসেবে আমরা এই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছি।”
লর্ডসে এতদিন মহিলা টেস্ট না হওয়ায় বিস্ময়ও প্রকাশ করেন তিনি। হরমনপ্রীত বলেন, “আমরা আলোচনা করছিলাম, এত বছর পর এই ম্যাচটা হচ্ছে। মহিলারাও যে লর্ডসে টেস্ট ম্যাচের অংশ হতে পারে, সেটা অনুভব করতে আমাদের এত বছর লেগে গেল। সত্যি বলতে, বিষয়টা জেনে আমি অবাক হয়েছিলাম। আগে এটা আমার জানা ছিল না। তবে এটা দারুণ একটা সুযোগ। আমার মনে হয়, দেরিতে হলেও সুযোগটা এসেছে। আমি যে এখনও খেলছি এবং এই ঐতিহাসিক দিনের অংশ হতে পারছি, এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।”
লাল বলে খেলার অভিজ্ঞতা কম থাকায় চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করলেও আত্মবিশ্বাসী ভারত অধিনায়ক। তাঁর কথায়, “সত্যি বলতে এটা একটু চ্যালেঞ্জিং, কারণ আমরা নিয়মিত লাল বলে খেলি না। তবে আমরা সবাই এই ম্যাচ নিয়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত। চার-পাঁচটি অনুশীলন সেশনে আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। এটা আমাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হলেও আমরা দারুণ উৎসাহী। আর যখন কোনও কিছু নিয়ে কেউ এতটা উৎসাহী থাকে, তখন সবসময় নিজের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করে।”




