• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 17 August, 2026

আরও অর্ধেক মাস চলবে সকালের স্কুল, ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি বলল শিক্ষাদপ্তর

সকালের স্কুলের নির্দেশিকা আগেই জারি করা হয়েছিল। এবার তার সময়সীমা বৃদ্ধি পেল। পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার

আরও অর্ধেক মাস চলবে সকালের স্কুল, ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি বলল শিক্ষাদপ্তর

মাঝেমধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হলেও রাজ্যে গরম কিন্তু কমেনি। বরং তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে আট থেকে আশির। এই আবহে জোরকদমে চলছে স্কুল। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা এই খামখেয়ালি আবহাওয়াকে সঙ্গী করেই স্কুলমুখো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস তুলে পঠনপাঠন করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। রোদ্দুরের তেজ সহ্য করে ঘর্মাক্ত অবস্থায় স্কুলে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে পড়ুয়ারা। এমনকী অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়ছে। তাই প্রবল গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় শিশুদের জন্য মর্নিং স্কুল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সোমবার এমনই একটি বিজ্ঞপ্তি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাদপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তির কোনও সত্যতা নেই। এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।

এদিকে সকালের স্কুলের নির্দেশিকা আগেই জারি করা হয়েছিল। এবার তার সময়সীমা বৃদ্ধি পেল। পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সকালে স্কুল চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুলশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে। তাতে গরম খানিকটা কম লাগবে। পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পাহাড় বাদে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে ৩০ জুন পর্যন্ত মর্নিং স্কুল চালুর নির্দেশ দিয়েছিল স্কুল শিক্ষাদপ্তর।  ৩০ জুনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সমাজমাধ্যমে একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। ওই বিজ্ঞপ্তি তে বলা হয়, আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত মর্নিং স্কুলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলায় বর্ষা ঢুকেছে বলে দাবি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। তারপরও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় তীব্র গরম রয়েছে। তাপপ্রবাহ চলার জেরে স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে। রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চল অর্থাৎ পাহাড়ের জেলাগুলি বাদে বাকি সমস্ত জেলার জন্য এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কারণ পাহাড়ে বর্ষার ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে।

তাছাড়া মর্নিং শিফটে ক্লাস করার জন্য উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে স্কুলগুলির পক্ষ থেকে। বেশ কয়েকটি জেলায় অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার জেরে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন তাঁদের অধীনস্থ স্কুলগুলিকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সকালের শিফটে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আবহাওয়ার কথা। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী। তিনি জানান, খোঁজ নিয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, ১৫ জুলাই পর্যন্ত মর্নিং স্কুল চালুর কোনও সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি। যাঁরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।