• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 9 July, 2026

আচমকা বারাসত মেডিক্যালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হানা, বেহাল পরিষেবা দেখে ওয়ার্ড মাস্টার-সহ একাধিককে শোকজ

হাসপাতালের একাধিক ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসতেই ওয়ার্ড মাস্টার-সহ কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে

আচমকা বারাসত মেডিক্যালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হানা, বেহাল পরিষেবা দেখে ওয়ার্ড মাস্টার-সহ একাধিককে শোকজ

Photo: Representational Image

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং রোগী সুরক্ষাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একের পর এক সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে বের হন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখার পর দুপুরে তিনি পৌঁছন বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে রোগী পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালের একাধিক ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসতেই ওয়ার্ড মাস্টার-সহ কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডর এবং পরিষেবা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের করিডরে তাঁর সামনেই বিড়ালের অবাধ বিচরণ নজরে আসে। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যবস্থা দেখে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ধরনের পরিস্থিতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, ‘কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, সে সরকারে যে-ই থাকুক না কেন। এখন দোষ আমার কাঁধে। সে বোঝা যে-ই বানাক, সেই বোঝা আমার কাঁধে। এখন সেই বোঝা হালকা করার দায়িত্বও আমার।’
হাসপাতালের পরিষেবাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। শুধু মেডিক্যাল কলেজ নয়, গ্রামীণ হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালও এই নজরদারির আওতায় আসবে। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালের পরিষেবার উপরও নজরদারি চালানো হবে বলে জানান তিনি।
রোগীদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার মান বজায় রাখতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন ব্যবহার সম্পূর্ণ রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্যভবনের পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলিতে বিশেষ চিরুনি তল্লাশি চালানো হবে বলেও ঘোষণা করেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সবচেয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে হাসপাতালের দালালচক্রের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘হাসপাতালে দালালদের কোনও জায়গা হবে না।’ তিনি জানান, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য পৃথক পরিচয়পত্র, ব্যান্ড বা আইডেন্টিফিকেশন ব্যাজ চালু করা হবে।
স্বাস্থ্যভবনের দেওয়া এই পরিচয়পত্র ছাড়া হাসপাতালের ভেতরে যাঁরা ঘোরাফেরা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
এদিন তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যভবনের অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি আইডি হাসপাতালে গিয়ে কুকুরের অবাধ বিচরণও তাঁর নজরে এসেছে। বারাসত মেডিক্যালের পরিস্থিতি দেখেও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ, রোগী পরিষেবা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোগীকে অকারণে বড় হাসপাতালে রেফার করার প্রবণতা কমাতেও সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রান্তিক এলাকার হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো এবং পরিষেবা উন্নত করা গেলে অপ্রয়োজনীয় রেফার অনেকটাই কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন।