ভোট-পরবর্তী হিংসায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর জখম হওয়া আরও দুই দলীয় কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের নাম সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং তপন শিকদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজ্যে।
তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সপ্তগ্রাম বিধানসভা এলাকার পোলবা-দাদপুর ব্লকের বাসিন্দা সোমনাথ ভট্টাচার্যকে বিজেপি কর্মীরা মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি তৃণমূলের।
Advertisement
অন্যদিকে, চাকদহ বিধানসভা এলাকার চাকদহ ব্লকের তপন শিকদারকেও বিজেপি কর্মীরা নির্মমভাবে মারধর করে বলে অভিযোগ। তাকেও গুরুতর অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে তৃণমূলের দাবি।
Advertisement
এই দুই মৃত্যুর পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপির ‘হিংসার রাজনীতি’র জেরেই একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। দলের বক্তব্য, শুধুমাত্র তৃণমূল সমর্থক হওয়ার কারণেই সাধারণ কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে।
তৃণমূলের একাংশের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে সমর্থন করাই কি এখন মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে? নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে উঠেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বার বার হামলার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পাশাপাশি আদালতের নীরবতা নিয়েও সরব হয়েছে শাসকদল।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যে সংঘাতের আবহ আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।
Advertisement



