• facebook
  • twitter
Tuesday, 12 May, 2026

শিবপুরে ‘বড়ো’র খোঁজে পুলিশের হানা, সুড়ঙ্গের নিচে বিলাসবহুল আস্তানা ঘিরে চাঞ্চল্য

শিবপুরে পলাতক শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ো’র বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ঘিরে চাঞ্চল্য। বিলাসবহুল ভূগর্ভস্থ আস্তানার ছবি ভাইরাল হতেই এলাকায় শোরগোল।

নিজস্ব চিত্র

শিবপুরের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ‘ডন’ নামে পরিচিত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামিমা বানুর স্বামী শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ো’। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শিবপুরের চৌড়া বস্তি এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ফের শিরোনামে উঠে এল তাঁর নাম। বিস্ফোরণ ও গুলিচালনার অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া তদন্তে সোমবার তাঁর বাড়িতে হানা দেয় শিবপুর থানার পুলিশ। আর সেই তল্লাশিতেই সামনে আসে এক চমকে দেওয়া বিলাসবহুল ভূগর্ভস্থ আস্তানার ছবি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই চৌড়া বস্তি এলাকায় তৃণমূল এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ, এলাকায় একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, ‘বড়ো’র মদতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত হিসাবে শামিম আহমেদের নাম সামনে আসে।

Advertisement

এর পর তদন্ত শুরু করে শিবপুর থানা। জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন শামিম আহমেদ। তাঁর খোঁজে সোমবার এলাকায় অভিযান চালান হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। সেই সময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কার্যত হতবাক হয়ে যায়।

Advertisement

তদন্তকারীদের দাবি, বাড়ির নীচে তৈরি করা হয়েছিল অত্যন্ত বিলাসবহুল এক ভূগর্ভস্থ আস্তানা। আধুনিক আসবাব, দামি বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম এবং সর্বক্ষণ নজরদারির জন্য অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা বসানো ছিল সেখানে। বাইরে থেকে দেখে কোনওভাবেই বোঝার উপায় ছিল না ভিতরে এত বড় আয়োজন রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া একটি দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, ভূগর্ভস্থ ওই অংশে একাধিক ঘর তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে শোওয়ার ঘর, বৈঠকখানা এমনকি রান্নাঘরের ব্যবস্থাও ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। গোটা ঘটনাকে ঘিরে শিবপুর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ো’কে শিবপুর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ‘অঘোষিত সম্রাট’ বলেই মনে করেন এলাকার বহু মানুষ। তাঁর স্ত্রী শামিমা বানু ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হাওড়া পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মধ্য হাওড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের প্রভাবশালী মুখ হিসাবেও পরিচিতি তৈরি হয় ‘বড়ো’র। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় তিন বছর আগে রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলার অভিযোগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা শামিম আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ সময় জেলে থাকার পর কয়েক মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ফের নতুন করে হিংসার ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানোয় রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই ‘বড়ো’র খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।

Advertisement