বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল রাজ্যে। শিক্ষা দপ্তরে প্রস্তুত করা ডিএ সংক্রান্ত ফাইল অবশেষে নবান্নে পৌঁছেছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই বিকাশ ভবন থেকে এই ফাইল পাঠানো হয়েছে। এর আওতায় রয়েছেন অধ্যাপক, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।
জানা যাচ্ছে, স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দপ্তর আলাদা ভাবে বকেয়া ডিএ-র হিসাব তৈরি করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও কর্মীদের প্রাপ্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সমস্ত তথ্য একত্রিত করে চূড়ান্ত হিসাব তৈরির পরই তা নবান্নে পাঠানো হয়েছে, যা প্রশাসনিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
প্রশাসনিক মহলের মতে, ফাইলটি এখন নীতিগত সিদ্ধান্তের স্তরে রয়েছে। অনুমোদন মিললেই পরবর্তী আর্থিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশের পরই রাজ্য সরকার এই বকেয়া ডিএ মেটানোর উদ্যোগ নেয়। ফলে নির্বাচন চলাকালীন আদর্শ আচরণবিধি এই প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
এর আগে গত ১৫ মার্চ, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে জানান, শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, এমনকি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও ডিএ পাওয়ার অধিকারী। তবে পরে শুধুমাত্র সরকারি কর্মীদের জন্য পদক্ষেপ শুরু হওয়ায় শিক্ষামহলে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল।
সম্প্রতি নবান্নে অর্থ দফতরের সঙ্গে একাধিক দফতরের বৈঠকের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দাবি, ফাইল অর্থ দপ্তরে পৌঁছনোর ফলে সব স্তরের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য ডিএ প্রাপ্তির পথ খুলে গিয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই অগ্রগতি ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা—যা মিললেই বহু প্রতীক্ষিত ডিএ পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে।
Advertisement



