• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 4 June, 2026

পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিআর দিতে শুরু করল রাজ্য

গত ২৯ মে প্রকাশিত ডিআর সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে নবান্ন জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কোনও কর্মী বা পেনশনভোগী প্রয়াত হলে তাঁদের মনোনীত ব্যক্তি অথবা আইনগত উত্তরাধিকারীর হাতে বকেয়া অর্থ তুলে দেওয়া হবে

রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জন্য বড় ঘোষণা করল নবান্ন। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ (ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর) এবং মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার থেকেই বকেয়া ডিএ প্রদানেরও কাজ শুরু হয়েছে। এবার বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ দেওয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া অর্থ ধাপে ধাপে প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর হল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশনের উপর দেওয়া মূল্যবৃদ্ধি ভাতা। কর্মরত সরকারি কর্মীরা যেমন ডিএ পান, তেমনই অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরা ডিআর পান। এর উদ্দেশ্য হল মূল্যবৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব থেকে পেনশনভোগীদের সুরক্ষা দেওয়া। গত ২৯ মে প্রকাশিত ডিআর সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে নবান্ন জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কোনও কর্মী বা পেনশনভোগী প্রয়াত হলে তাঁদের মনোনীত ব্যক্তি অথবা আইনগত উত্তরাধিকারীর হাতে বকেয়া অর্থ তুলে দেওয়া হবে। প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে বকেয়া পাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মী বা পেনশনভোগীর মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে অর্থ প্রদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। সেই সমস্যা সমাধান করতেই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিতে যদি কোনও মনোনীত ব্যক্তির নাম থাকে, তবে তিনিই বকেয়া অর্থ পাবেন। বর্তমান পারিবারিক পেনশনভোগী এবং মনোনীত ব্যক্তি একই হলে সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে। অন্যদিকে, মনোনীত ব্যক্তির তথ্য না থাকলে আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের হাতে বকেয়া অর্থ তুলে দেওয়া হবে।

অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার থেকেই বকেয়া ডিএ প্রদানেরও কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই আর্থিক পাওনা মিটতে শুরু করায় রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারগুলির মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপে বহু পেনশনভোগী ও উত্তরাধিকারী উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।