মা আগেই বিদ্রোহ দেখিয়ে সাংসদ ভাঙিয়ে লোকসভায় পৃথক ব্লক তৈরির পথে হাঁটছেন। এমনকী এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। এই আবহে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠুকে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন ছেলে। তাতে আবার মায়ের সমর্থন পেল ছেলে। এই নিয়ে এখন রাজ্য-রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। হ্যাঁ, মা কাকলি ঘোষদস্তিদার. আর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার।
এদিকে ‘বিদ্রোহী’ কাকলি ঘোষদস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদারের কড়া পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথের বিয়েতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপহার দিয়েছিলেন। এবার সেই উপহার ফেরতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বৈদ্যনাথ। এই প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেছেন বৈদ্যনাথ। ওই পোস্টে বৈদ্যনাথ লিখেছেন, ‘বিয়েতে আমার স্ত্রীকে দেওয়া মমতার সোনার হার ও দুর্গাপুজোয় আমাকে দেওয়া কুর্তা-পাজামা ফেরত দিচ্ছি। সঠিক সময়ে তা ফেরত নিয়ে নেওয়াই সমীচীন হবে’।
অন্যদিকে বিয়ের সময় বৈদ্যনাথের স্ত্রীকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছিলেন সোনার নেকলেস। দুর্গাপুজোর সময় বৈদ্যনাথকে দিয়েছিলেন পায়জামা-পাঞ্জাবি। এবার সেইসব উপহার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার। রবিবারই ফেরত দিচ্ছেন ওইসব উপহার। সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈদ্যনাথ জানিয়েছেন, এটাই সঠিক সময় উপহার ফেরতের। বিধানসভা নির্বাচনের পর লোকসভাতে ভাঙনের মুখে তৃণমূল। দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ২০ জন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ছেড়ে আলাদা ব্লক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার মুখ কাকলিই।
তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ করেছেন কাকলির ছেলে পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার। বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের টিকিট চাওয়া ও পরিবারকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র এবং নেত্রী সোনালী গুহকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তিনি। প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে এই নোটিসে। কদিন আগে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে ইঙ্গিত করেন, এক সাংসদের পরিবারের সদস্য বারাসতের বিধানসভা টিকিট চেয়ে না মেলায় দলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারপরই আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো হয় নোটিস। সেখানে বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কখনওই বারাসত বা অন্য কোথাও নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেননি। টিকিট না পেয়ে তাঁর মা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে যে দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এরপরই সমাজমাধ্যমে ছেলের পোস্টকে সমর্থন করে কাকলি ঘোষদস্তিদার লেখেন, ‘তোমার ও তোমার স্ত্রীয়ের জন্য গর্বিত।’




