• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 30 July, 2026

আর জি করে বিরল অস্ত্রোপচারে নজির

আবারও চিকিৎসা পরিষেবার জন্য শিরোনামে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। সাত মাসের বেশি অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলার বিরল

আর জি করে বিরল অস্ত্রোপচারে নজির

আবারও চিকিৎসা পরিষেবার জন্য শিরোনামে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। সাত মাসের বেশি অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলার বিরল ও জটিল অস্ত্রোপচার করে একসঙ্গে মা ও নবজাতকের প্রাণ বাঁচিয়ে নজির গড়লেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। জেনারেল সার্জারি, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ এবং অ্যানাস্থেসিয়া—এই তিন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগেই সম্ভব হয়েছে এই সাফল্য।

গত ২১ জুলাই গভীর রাতে ৩৩ বছর বয়সি এক অন্তঃসত্ত্বাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আর জি কর হাসপাতালের সার্জিক্যাল ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয়। তিনি ৩১ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া এবং মলত্যাগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হচ্ছিল।

পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, সম্পূর্ণ অন্ত্রে বাধা তৈরি হয়েছে। কারণ, মলদ্বারের মধ্যভাগে থাকা একটি টিউমার। এর জেরে শুধু মায়ের জীবনই নয়, গর্ভস্থ শিশুর জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি আরও জটিল ছিল, কারণ এর আগে ওই মহিলার দু’বার সিজারিয়ান এবং একবার ল্যাপারোটমি হয়েছিল।

সময় নষ্ট না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করে। অস্ত্রোপচার শুরুর ঠিক আগে আরও উদ্বেগ বাড়ায় ভ্রূণের হৃদস্পন্দন না পাওয়ার ঘটনা। প্রতিটি মুহূর্ত তখন কার্যত জীবন-মৃত্যুর লড়াই।

প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে প্রথমে শিশুটিকে নিরাপদে প্রসব করানো হয়। এরপর মলদ্বারের টিউমার অপসারণের জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন চিকিৎসকেরা। সব বাধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত মা ও শিশুকে সুস্থভাবে বাঁচানো সম্ভব হয়।

অপরিণত নবজাতককে সঙ্গে সঙ্গে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়। মাকে রাখা হয় সার্জিক্যাল আইসিইউ-তে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তিন দিনের মধ্যেই মায়ের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় তাঁকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। নবজাতকও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। এখনও পর্যন্ত তাকে কোনও লাইফ সাপোর্ট দিতে হয়নি।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, এমন জটিল পরিস্থিতিতে মা ও শিশুকে একসঙ্গে বাঁচানো অত্যন্ত বিরল ঘটনা। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, তিন বিভাগের সমন্বিত পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং দক্ষতার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। রোগীর পরিবারের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও এই সাফল্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর এই ঘটনা রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মুকুটে যোগ করেছে একটি গর্বের পালক।