বড় আশা করে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছিলেন ২০ জন সাংসদ। তারপর এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন তাঁরা। দেখা গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ থেকে শুরু করে নৈশভোজ করতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে এবং বিজেপি সাংসদের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করতে। খোদ লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে ছবি তুলে তা সমাজমাধ্যমে ফলাও করে পোস্ট করা হয়েছিল। এবার ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। সোমবার জগদীশ বর্মা বসুনিয়া সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনই দাবি করলেন। এমনকী বেশ কিছু বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরলেন। যা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। এখন তিনি এনসিপিআই দলে। এই আবহে সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে মামলা হয়ে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে বিচারপতির প্রথম পর্যবেক্ষণে বেশ চাপে পড়ে যান ২০ জন সাংসদ। এবার যখন নির্বাচনে কমিশনে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীকের লড়াই চলছে তখন বিস্ফোরক দাবি করলেন সাংসদ বসুনিয়া। বাংলায় এসে বারবার তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। সোমবার সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের আর কোনও বাধা নেই। দুর্গাপুজোর আগেই এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেবেন।
তাহলে বাকি তিনজনের কী হবে? এই তিনজন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। তবে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন জগদীশ বসুনিয়া। বিদ্রোহী এই সাংসদের দাবি, ‘এখন ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জন গেলেই দুই-তৃতীয়াংশ হয়। আর আমরা ১৭ জন একসঙ্গে যাচ্ছি। সুতরাং কোনও অবস্থাতেই আমাদের সদস্যপদ বাতিল হবে না বা আমরা দলবিরোধী আইনের আওতায় পড়ব না। আর বাকি তিনজনের সংসদীয় এলাকা সংখ্যালঘু প্রধান হওয়ায় সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কিছু সমস্যা আছে। তাই ওই তিনজন সাংসদ সরাসরি দলবদল করবেন না। তবে তাঁরা এনডিএ-র অংশ হিসেবেই কাজ করবেন। তাই তাঁদের নানা কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।’
অন্যদিকে জগদীশ বসুনিয়ার এমন বক্তব্যে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য-রাজনীতি। কারণ বিজেপি নেতারা আগেই দাবি করেছিলেন, দলে তৃণমূলীকরণ হবে না। কিন্তু এখন এই সাংসদদের বিজেপিতে নিলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। দলের অন্দরে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। বিজেপিতেই যদি যোগ দেবেন তাহলে এনসিপিআই দলে যোগ দিলেন কেন? এই বিষয়ে জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘দলীয় বিধিনিষেধ এবং দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতেই বিজেপি আমাদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা এনসিপিআই-তে যাওয়ার কথা জানতাম না। এখন আমাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তিনজন সংখ্যালঘু থেকে যেতে চাইলেও আমরা বিজেপিতে যোগ দেব। আমাদের পরিকল্পনা তৈরি আছে। তিনজন সাংসদ বিজেপিতে যেতে চাইছিলেন না। তখন আমাদের দিল্লির নেতারা, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বাকি সবাই এনসিপিআই-এর সঙ্গে আমাদের মার্জার করিয়ে দেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। স্পিকারের কাছেও তিনি আবেদন করেন। সেই প্রক্রিয়া চলছে। হয়তো দুর্গাপুজোর আগেই শেষ হয়ে যাবে।’ যদিও রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘বিজেপিতে এমন কিছুই ঘটে না। এমন কিছু ঘটেছে কিনা জানা নেই। এনসিপিআই সাংসদ যে মন্তব্য করেছেন তার দায় তিনি নিজেই নেবেন। এর দায় বিজেপির নয়।’




