বিশ্ববিদ্যালয় মানে জ্ঞানচর্চার মুক্ত অঙ্গন। অথচ সেই শিক্ষাঙ্গনেই যদি বারবার সংঘর্ষ, ভাঙচুর আর আতঙ্কের ছবি দেখা যায়, তবে নিরাপদে পড়াশোনা করবে কারা? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশে লাগাম টানা এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল।
ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। সূত্রের খবর, আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হতে পারে।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বামপন্থী ও গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সংঘর্ষের সুযোগে একাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে এবং ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এই প্রশ্ন শুধু যাদবপুরের গণ্ডিতে আটকে নেই। রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও বহিরাগতদের প্রবেশ এবং তার জেরে সম্ভাব্য অশান্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মামলাকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সংঘর্ষের মধ্যে সাধারণ পড়ুয়াদের নিরাপত্তা যেন কোনওভাবেই উপেক্ষিত না হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা জ্ঞানচর্চার জন্য খোলা থাকবে। কিন্তু সেই খোলা দরজা যেন বিশৃঙ্খলার সুযোগ না হয়ে ওঠে, এটাই তাঁদের মূল দাবি।
মামলাকারীদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণহীন বহিরাগত প্রবেশের ফলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বারবার সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জেরে পঠনপাঠনের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করা বা ক্যাম্পাসে চলাফেরা করা কোনও পড়ুয়ারই কাম্য নয় বলে দাবি মামলাকারীদের।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সপ্তাহের শুরুতে ভারী বৃষ্টিতে ভিজবে উত্তর, কলকাতা-সহ দক্ষিণে কী পরিস্থিতি?
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই, বিশ্ববিদ্যালয় কি সংঘর্ষের ময়দান নাকি স্বপ্ন গড়ার নিরাপদ ঠিকানা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে রাজ্যের অসংখ্য পড়ুয়া ও তাঁদের পরিবার।




