আগে দু’বার বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাতেই তিনি টের পেয়েছিলেন এলাকায় ঠাঁই পাওয়া কঠিন। তাই পত্রপাঠ সেখান থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে সাংসদ হওয়ার পর সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে দল হেরে যেতেই বিদ্রোহী হয়ে উঠে ২০ জন সাংসদের সঙ্গে ভিড়ে গিয়েছেন। এমনকী দল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই নিজের এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। আর রবিবার সেটাই ব্যাপক আকার নিল। যা ভাবতে পারেননি এই সাংসদ।
তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ভেবেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের ছত্রছায়ায় দিব্যি কাটিয়ে দেবেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতঃরাশ থেকে শুরু করে নৈশভোজ পর্যন্ত করতে দেখা গিয়েছিল। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এমনকী এনডিএ বৈঠকে ওই সাংসদদের দেখা গিয়েছিল। এই পরিস্থিতির পরও জনতার বিক্ষোভ ঠেকাতে পারছেন না কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। এদিন বাড়িতে পা রাখা মাত্রই আবার তাঁকে ঘিরে প্রতিবাদ শুরু করল দলের কর্মী, সমর্থকরা। রবিবার সাংসদের সিতাইয়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ মিছিল থেকে শুরু করে দলের পার্টি অফিসে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হল। এই নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
এমন পরিস্থিতিতে খবর দেওয়া হয় সাংসদের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং পুলিশকে। তখন তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর এই ঘটনা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এনসিপিআই দলে যোগ দিয়ে বিজেপির সঙ্গী হওয়া সাংসদ ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি করেছেন। এসবই বেআইনি। রবিবাসরীয় ছুটির দিনে সিতাইয়ের বাড়িতে ফিরেছেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। এই কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায়। তবে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যেতেই সঙ্গীতা ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত শিবিরে ঝুঁকেছেন। কিন্তু এসব মেনে নিতে রাজি নন কর্মীরা। সেই ক্ষোভ এবার ভয়ঙ্কর আকারে আছড়ে পড়ল।
শুধু তাই নয়, বিক্ষোভকারী কর্মীদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। রাইস মিল-সহ নানা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এই সাংসদ। এমনকী সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান তাঁদের পছন্দ নয়। কারণ একসময় ফরওয়ার্ড ব্লক করেছেন। পরে তৃণমূল এবং এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। তবে তাঁকে বিজেপিতে যোগ দিতে দেওয়া হবে না। মানুষের ভোট নিয়ে প্রতারণার জবাব তাঁকে দিতই হবে। কর্মীদের পরিশ্রমের উপর দাঁড়িয়ে জিতে এখন দলবদল বরদাস্ত করা হবে না।




