• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 27 October, 2026

গাইঘাটায় নাবালিকা খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য! প্রহ্লাদের সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল ছাত্রীর?

গাইঘাটায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যুকে ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক তথ্য। গত রবিবার সকালে

গাইঘাটায় নাবালিকা খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য! প্রহ্লাদের সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল ছাত্রীর?

গাইঘাটায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যুকে ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক তথ্য। গত রবিবার সকালে একটি বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার হয়েছিল একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর অর্ধনগ্ন দেহ। পরে ওই রাতেই প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

সূত্রের খবর, শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন নাবালিকার মা। সেই সময় বান্ধবীদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছিল কিশোরী। কিছুক্ষণ পর থেকেই তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ।

জানা গিয়েছে, নিহত প্রহ্লাদ ও ওই কিশোরী পরস্পরের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রহ্লাদের ভাই ধ্রুব দাসের দাবি, তাঁর দাদার দোকানে মাঝেমধ্যেই যেত ওই ছাত্রী। দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত বলেও দাবি তাঁর।

প্রহ্লাদের ভাইয়ের বক্তব্য, ঘটনার রাতে বাড়ি ফিরে তাঁর দাদা স্বাভাবিকভাবেই শুয়ে পড়েছিলেন। পরদিন পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়। ধ্রুবের কথায়, “আমি ভাবতেই পারিনি দাদা এটা করবে। ও এমন একটা ছেলে যে কেউ বলতে পারবে না ও এই কাজ করেছে। সবাই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছে।”

সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত জানিয়েছিলেন, ওই ছাত্রী তাঁর মাকে নিয়ে খারাপ কথা বলেছিল। তা থেকেই তাঁর রাগ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছিলেন তিনি। তবে শুধুমাত্র এই কারণে এমন অপরাধ ঘটানো হতে পারে কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছিল বলে সূত্রের খবর।

পুলিশ সূত্রে আরও দাবি, কিশোরীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। তাতে সে রাজি না হওয়ায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর কিশোরী জ্ঞান হারালে তার উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

সূত্রের খবর, অভিযুক্তের শরীরে ধস্তাধস্তি ও নখের আঁচড়ের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে তদন্তে এগিয়েছিলেন তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রহ্লাদের ভাইয়ের দাবি, তাঁর দাদা ও ওই ছাত্রীর মধ্যে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন উঠছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।