স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে বাড়ির কাছেই আয়োজিত জলসা দেখতে গিয়েছিল ওই কিশোরী। সেখানে তার বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যেরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলেছিল অনেক রাত পর্যন্ত। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর মোবাইলে একটি ফোন আসে। সেই ফোন পাওয়ার পরই জলসার অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে। তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি।
রাতে কিশোরী বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। কিন্তু রাতভর চেষ্টা করেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। রবিবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির পিছনে তার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
কিশোরীর এক মামি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় রাস্তায় ওই কিশোরীর সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়েছিল। তখন সে বান্ধবীর সঙ্গে জলসা দেখতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। তাঁর কথায়, “অনুষ্ঠান শেষে আমরা বাড়ি ফিরি। শুনি, ও ফেরেনি। ফোন করেছিলাম, কিন্তু ফোনটা ওয়েটিংয়ে ছিল। নেটওয়ার্কের সমস্যা ভেবে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সকালে শুনছি এই কাণ্ড।”
প্রাথমিকভাবে সন্দেহের ভিত্তিতে কিশোরীর এক আত্মীয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, কিশোরীর সঙ্গে ধৃতের সম্পর্ক কী এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণও জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে গাইঘাটা থানার পুলিশ।
ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। তিনি বলেন, “ধর্ষণ সমাজের একটা ব্যাধি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরনের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়। আমি এবং আমার দল মেয়েটির পরিবারের পাশে আছি। যে বা যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
বিধায়ক আরও জানান, গাইঘাটা থানার আইসির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁর দাবি, পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।




